নিউজ ডেস্ক: শুক্রবার চিনের সিচুয়ান প্রদেশের নেইজিয়াং-র লংচাং শহরে ৫.১ মাত্রার একটি ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। খবরটি জানিয়েছে 'চায়না আর্থকোয়েক নেটওয়ার্কস সেন্টার'(CENC)। সর্বশেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী, স্থানীয় সময় দুপুর ১টা ১৩ মিনিটে এই ভূমিকম্পটি আঘাত হানে এবং এর উৎপত্তিস্থল ভূপৃষ্ঠ থেকে ১৩ কিলোমিটার গভীরে। নেপাল সীমান্তবর্তী এলাকায় ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসের রেশ কাটতে না কাটতেই চীনে এই ভূমিকম্পটি আঘাত হানল।
অন্যদিকে, নেপালের 'ছোচেন খোলা' ও 'পুরেপু-সাংপো' নদীর মিলনস্থলে সৃষ্ট একটি 'ব্যারিয়ার লেক' (প্রাকৃতিক বাঁধের ফলে সৃষ্ট হ্রদ) ভেঙেছে। এর ফলে আশঙ্কা আরেকটি বড় বন্যার! ‘ছচেন খোলা’ ও ‘পুরেপু সাংপো’ নদী দুটির উৎপত্তি তিব্বতে এবং নেপালে প্রবেশের আগেই এরা পরস্পরের সাথে মিলিত হয়েছে; নেপালে এই মিলিত প্রবাহটি ‘ভোতেকোশি’ নদী নামে পরিচিত। ভোতেকোশি হলো ত্রিশূলী নদীর প্রধান উজানস্থ উপনদী। এখন প্রশ্ন উঠছে, চিনের ভূমিকম্পের প্রভাব কী বন্যা বিধ্বস্ত নেপালেও পড়বে?
চিনের জলসম্পদ মন্ত্রণালয় বৃহস্পতিবার সকাল নাগাদ হ্রদটির জলের পরিমাণ প্রায় ২০ লাখ (২মিলিয়ন) ঘনমিটার বলে জানিয়েছিল। চিনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানাচ্ছে, পরবর্তী তিন দিনে হ্রদটিতে আরও ৩০ লাখ(৩ মিলিয়ন)ঘনমিটার জল বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা আছে। চিনা কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে,তারা হ্রদটির ওপর বিশেষ নজর রাখছে। একই সঙ্গে সম্ভাব্য বাঁধ ভাঙার পরিণতি আটকাবার জন্য এবং জরুরি প্রয়োজন তথা উদ্ধার ও বন্যা নিয়ন্ত্রণ অভিযানের প্রস্তুতি লক্ষ্যে তারা বন্যার সিমুলেশন ও জলবিজ্ঞান সংক্রান্ত বিশ্লেষণ করেছে।
রাসুয়ার প্রধান জেলা কর্মকর্তা নরেন্দ্র পরিয়ার শুক্রবার জানিয়েছেন যে, নেপালি সেনাবাহিনী তাকে হ্রদটি ভেঙে পড়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উদ্ধার সমন্বয় কেন্দ্রের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য ধুনচে এবং রাসুয়ার অন্যান্য এলাকায় আগে থেকেই অবস্থানরত হেলিকপ্টারগুলোকে কাজে লাগানো হবে। ওই কর্মকর্তা আরও জানান, এই অভিযানের জন্য কাঠমান্ডু থেকে অতিরিক্ত কোনো হেলিকপ্টার পাঠানো হবে না।
তিনি বলেন, 'চিন সীমান্তের দিকের হ্রদটি ভেঙে পড়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। তাই পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য ধুনচে ও রাসুয়ার এলাকায় থাকা হেলিকপ্টারগুলো পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। এই পর্যবেক্ষণের উদ্দেশ্য হলো ভোতেকোশি নদী তীরবর্তী এলাকার পরিস্থিতি যাচাই করা এবং হ্রদ ভেঙে পড়ার ফলে যেসব এলাকা বাড়তি ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে, সেগুলো চিহ্নিত করা।' কাকতালীয় ভাবে বাঁধ ভাঙার এই ঘটনাটি এমন সময়ে ঘটল, যার ঠিক দুদিন আগেই নেপাল-চীন সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায় আকস্মিক ও প্রবল এক বন্যা আঘাত হেনেছিল।
এদিকে, বিমানবন্দরের কর্মকর্তাদের তথ্যমতে, বুধবারের বন্যার ঠিক পরপরই 'উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনাকারী হেলিকপ্টারগুলোর মধ্যে সমন্বয় যথেষ্ট কার্যকর ছিল না' এমন অভিযোগ ওঠে। এরপরেই 'ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর' ‘রেসকিউ কোঅর্ডিনেশন সেন্টার’ এই কার্যক্রমের সমন্বয় ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে।