স্পোর্টস ডেস্ক: আজ এসিএল-২ এর ম্যাচে নামছে ইস্টবেঙ্গল । প্রতিপক্ষ ইরাকের আল শোর্তা । সদ্য শেষ হয়েছে আইএফএ শিল্ড । ফাইনালে মোহনবাগানের কাছে ম্যাচ হেরে শিল্ড হাতছাড়া হয়েছে লাল-হলুদের। তবে এখন তা নিয়ে ভাবতে নারাজ । আইএফএ শিল্ড যে অতীত , তা এএফসি কাপের ম্যাচে আল শোর্তার বিরুদ্ধে নামার আগে জানিয়ে দিলেন ইস্টবেঙ্গল কোচ আন্তোনিও লোপেজ হাবাস ।
মঙ্গলবার ঘরের মাঠ যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে এসিএল-২ এর ম্যাচে নামছে ইস্টবেঙ্গল । এই মাঠেই আল আরাবিকে হারিয়ে এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ টুয়ে খেলার ছাড়পত্র সংগ্রহ করেছিল লাল-হলুদ ব্রিগেড । এরপর বিদেশের মাটিতে আল হোসেনের বিরুদ্ধে দাপট দেখায় হাবাসের দল । তবে ১ পয়েন্ট নিয়ে দেশে ফেরেন আনোয়ার আলিরা । তবে এবার সেই চেনা মাঠ । নিজদের ঘরের মাঠে নামবে দল। তাই এই ম্যাচ যে নতুন চ্যালেঞ্জ, নতুন প্রতিপক্ষ, আল শোর্তার বিরুদ্ধে নামার আগে জানালেন লাল-হলুদ কোচ ।
এই ম্যাচে নামার আগে ইস্টবেঙ্গল কোচ হাবাস বলেন, “আমরা কয়েকদিন আগে শিল্ড ফাইনাল খেলেছি কম সময়ের মধ্যে নিজেদের তৈরি করেছি । আমার কাছে পুরো দল আছে। প্রতিপক্ষ দল খুব ভালো। আমরা ঘরের মাঠে খেলবো। আমি জানি প্রতিপক্ষ কতটা ভালো। ম্যাচটা আমাদের নকআউট ম্যাচ হিসেবেই খেলতে হবে। আল শোর্তা এবং আল শাইখের বিরুদ্ধে জিততে পারলে পরের রাউন্ডে যাওয়ার সুযোগ থাকতে পারে। কিন্তু যদি হেরে যাই, তাহলে প্রতিযোগিতা থেকে বিদায় নিতে হবে। তাই পরিস্থিতি অনুযায়ী আমাদের পরিকল্পনা এবং খেলার ধরন বদলাতে হবে।”
কোথায় সমস্যা হচ্ছে লাল-হলুদের? হাবাসের কথায় , খেলায় দুটি অর্ধের মধ্যে বড় পার্থক্য হয়ে যাচ্ছে। লাল-হলুদ কোচ বলেন, “দ্বিতীয়ার্ধেও আমাদের প্রথমার্ধের মতো একই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে খেলতে হবে। তবে ফুটবলে প্রথম ৪৫ মিনিট এবং দ্বিতীয় ৪৫ মিনিট কখনওই একরকম হয় না। কারণ ম্যাচের ফলাফল, স্কোরলাইন, দলের পরিস্থিতি, ফুটবলারদের চোট এবং রেফারির সিদ্ধান্তের মতো একাধিক বিষয়ের ওপর খেলার গতিপ্রকৃতি নির্ভর করে। এই মুহূর্তে আমাদের দল পুরোপুরি প্রস্তুত। তবে আমাদের দু'জন ফুটবলার চোটের কারণে বাইরে রয়েছে। মাত্র ১৮ জন ফুটবলারকে নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করাটাও আমার কাছে বেশ কঠিন বলে মনে হচ্ছে। বিশেষ করে আমরা যখন এই গ্রুপের অন্যতম ফেভারিট দল। অবশ্য প্রতিপক্ষেও খুব ভাল ফুটবলার রয়েছে।”
হাবাসের দাবি, আল শোর্তা গ্রুপের সবচেয়ে কঠিন প্রতিপক্ষ। চলতি এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ টুতে একটি ম্যাচ জিতে তিন পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ শীর্ষে রয়েছে ইরাকের দল। আবার অন্যদিকে নিজেদের ঘরোয়া লিগে ছয় নম্বরে রয়েছে। এছড়াও আল শোর্তা দলে রয়েছে হেভিওয়েট স্ট্রাইকারও । সেই প্রসঙ্গে হাবাসের বক্তব্য, “ও পৃথিবীর সেরা স্ট্রাইকার নয়। আমরা একজনকে নিয়ে ভাবছি না পুরো ১১ জনকে নিয়ে ভাবছি । আমরা কাছে সব ম্যাচ গুরুত্বপূর্ণ। এই ম্যাচ জিতলে নক আউটের দিকে আরও এক ধাপ এগোব।আমাদের কাছে দারুণ সুযোগ এটা।”
এদিকে লাল-হলুদকে সমীহ আল শোর্তার কোচ সামি ত্রাবেলসির । তিনি এই ম্যাচে নামার আগে বলেন, “আমি আশা করছি এই ম্যাচ ভালো হবে। ইস্টবেঙ্গল সম্পর্কে ধারণা আছে। অনেক ম্যাচ দেখেছি। ভালো স্ট্রাইকার আছে । তবে আমাদের দলে ইরাক জাতীয় দলের ফুটবলার আছে। আমরা এখানে ড্র করতে আসিনি। জয়ই লক্ষ্য আমাদের ।”
