নিউজ ডেস্ক: নিউজ পোর্টাল নিউজক্লিকের বিরুদ্ধে আর্থিক তছরুপের মামলা খারিজের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)। বিদেশি বিনিয়োগ সংক্রান্ত alleged অনিয়মের তদন্তে দিল্লি হাইকোর্টের রায়কে আইনি ভাবে ত্রুটিপূর্ণ বলে দাবি করেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। তাদের বক্তব্য, তদন্ত সম্পূর্ণ হওয়ার আগেই প্রমাণের পর্যাপ্ততা নিয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছে আদালত। ফলে তদন্তের সুযোগ দেওয়া উচিত ছিল।
২০২৬ সালের ২৯ মে নিউজক্লিকের বিরুদ্ধে মামলা ও আর্থিক তছরুপ সংক্রান্ত কার্যক্রম খারিজ করে দেয় দিল্লি হাইকোর্ট। আদালতের পর্যবেক্ষণ ছিল, প্রায় দেড় বছর ধরে তদন্ত চললেও অভিযোগের সমর্থনে এমন পর্যাপ্ত আপত্তিকর তথ্য সামনে আসেনি, যা মামলাটি চালিয়ে যাওয়ার জন্য যথেষ্ট। এবার সেই সিদ্ধান্তকেই সুপ্রিম কোর্টে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছে ED।
হাইকোর্টের যুক্তি নিয়ে প্রশ্ন ED-র
ED-র আবেদনে বলা হয়েছে, তদন্তের পর্যায়ে আদালতের দেখা উচিত অভিযোগের ভিত্তিতে অপরাধ সংঘটিত হওয়ার যুক্তিসঙ্গত সন্দেহ তৈরি হচ্ছে কি না। এই পর্যায়েই প্রমাণের ভিত্তিতে অভিযুক্তের অপরাধ চূড়ান্তভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে কি না, তা বিচার করা উচিত নয় বলে দাবি সংস্থাটির।
তদন্তে বাধা তৈরির অভিযোগও তুলেছে ED। সংস্থার দাবি, ২০২১ সালের জুন মাসে আদালতের একটি নির্দেশে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে জবরদস্তিমূলক পদক্ষেপ না করার কথা বলা হয়েছিল। ওই সুরক্ষার নির্দেশ প্রত্যাহার বা ব্যাখ্যা চেয়ে করা আবেদন প্রায় তিন বছর ধরে বিচারাধীন থাকায় তদন্তের অগ্রগতি ব্যাহত হয় বলে দাবি ED-র। পাশাপাশি, তদন্তের সময় সংগ্রহ করা নথি ও অন্যান্য তথ্য হাইকোর্ট যথাযথভাবে বিবেচনা করেনি বলেও অভিযোগ কেন্দ্রীয় সংস্থাটির।
বিদেশি বিনিয়োগ নিয়ে কী অভিযোগ?
ED-র আবেদনে PPK NewsClick Studio Private Limited-এর বিদেশি বিনিয়োগ সংক্রান্ত কয়েকটি লেনদেনের উল্লেখ রয়েছে। এর মধ্যে Worldwide Media Holdings LLC-র সঙ্গে ১৫ লক্ষ মার্কিন ডলারের বিনিয়োগ চুক্তির বিষয়টিও রয়েছে। ওই অর্থ তিনটি কিস্তিতে দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল বলে আবেদনে উল্লেখ করেছে সংস্থাটি।
ED-র দাবি, পরিকল্পিত কিস্তিগুলির মধ্যে মাত্র একটি বিদেশি প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ হিসেবে পাওয়া গিয়েছিল। অর্থের প্রকৃতি ও লেনদেনের পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে তদন্তকারী সংস্থা। বিদেশি সংস্থার প্রতিষ্ঠা, ইমেল আদানপ্রদান এবং তদন্তে রেকর্ড করা বক্তব্যের কথাও আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এগুলি ED-র অভিযোগ; এগুলিকে প্রমাণিত অপরাধ হিসেবে ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই।
ECIR খারিজ নিয়েও আপত্তি
প্রতারণা ও অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের মতো অপরাধের উপাদান মামলায় নেই বলে হাইকোর্ট যে সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, তারও বিরোধিতা করেছে ED। একই সঙ্গে ECIR বা Enforcement Case Information Report খারিজ করার সিদ্ধান্ত নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে সংস্থাটি। ED-র বক্তব্য, ECIR একটি অভ্যন্তরীণ নথি এবং এটি পুলিশের FIR-এর সমতুল্য নয়। তাই ECIR খারিজ হলেই PMLA-র অধীনে সমস্ত কার্যক্রম স্বয়ংক্রিয়ভাবে শেষ হয়ে যায় না।
এছাড়া, ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৮২ নম্বর ধারায় হাইকোর্ট তার ক্ষমতার সীমা ছাড়িয়ে বিতর্কিত তথ্যগত বিষয় খতিয়ে দেখেছে বলেও দাবি ED-র।
এখন সুপ্রিম কোর্টে এই আবেদনের শুনানি ও পরবর্তী সিদ্ধান্তের দিকেই নজর রয়েছে। শীর্ষ আদালত কী অবস্থান নেয়, তার উপরই নির্ভর করবে নিউজক্লিক মামলার পরবর্তী আইনি গতিপথ।




