কলকাতা: সপ্তাহের শুরুতেই কলকাতায় ফের সক্রিয় এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। আর্থিক প্রতারণা ও বিনিয়োগের নামে বিপুল টাকা তোলার অভিযোগে সোমবার সকালে শহরের আটটি জায়গায় একযোগে তল্লাশি চালাল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। টালিগঞ্জ, শরৎ বোস রোড-সহ কলকাতার একাধিক এলাকায় এই অভিযান চালানো হয়। তদন্তকারীদের নজরে রয়েছে ‘অমৃত প্রজেক্ট লিমিটেড’ সংক্রান্ত একটি মামলা। সাধারণ মানুষকে মোটা অঙ্কের রিটার্ন দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে টাকা সংগ্রহ এবং সেই অর্থ বিভিন্ন ব্যবসায় বিনিয়োগ করার অভিযোগ উঠেছে। তবে এই ঘটনায় ঠিক কাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
টালিগঞ্জ থেকে শরৎ বোস রোড, কোথায় কোথায় তল্লাশি?
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, সোমবার সকালে কলকাতার আটটি জায়গায় তল্লাশি অভিযান শুরু করেন ইডির আধিকারিকেরা। টালিগঞ্জ ও শরৎ বোস রোড-সহ শহরের বিভিন্ন ঠিকানায় পৌঁছন তদন্তকারীরা। অভিযোগ, বেশি লাভের প্রলোভন দেখিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ টাকা সংগ্রহ করা হয়েছিল। পরে সেই টাকা নির্মাণ সংস্থা-সহ একাধিক ব্যবসায় ব্যবহার করা হয় বলে সন্দেহ তদন্তকারীদের।
তবে এই অভিযানে নির্দিষ্ট কোনও ব্যক্তি বা সংস্থার বিরুদ্ধে কী কী তথ্য পাওয়া গিয়েছে, তা এখনও বিস্তারিতভাবে প্রকাশ্যে আসেনি। তদন্তের স্বার্থে আধিকারিকেরা নথিপত্র ও আর্থিক লেনদেনের সূত্র খতিয়ে দেখছেন বলে জানা গিয়েছে।
অমৃত প্রজেক্ট মামলায় আগেও বড় অভিযান
এই মামলায় ইডির অভিযান অবশ্য নতুন নয়। গত সেপ্টেম্বর মাসে কলকাতা ও মধ্যপ্রদেশের ইন্দোর মিলিয়ে মোট ১৭টি জায়গায় তল্লাশি চালিয়েছিল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। কলকাতার নারকেলডাঙা, নেতাজিনগর, সাদার্ন অ্যাভিনিউ এবং বেলেঘাটা-সহ একাধিক এলাকায় অভিযান চালানো হয়েছিল।
সেই অভিযানে বিপুল পরিমাণ সম্পত্তি ও অর্থ বাজেয়াপ্ত করার কথা জানা গিয়েছিল। তদন্তকারী সংস্থার সূত্র অনুযায়ী, প্রায় ৭৫ কোটি টাকার স্থাবর সম্পত্তি এবং এক কোটি টাকা বাজেয়াপ্ত করা হয়েছিল। পাশাপাশি ৪,৮০০ মার্কিন ডলারও বাজেয়াপ্ত করা হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
বেনামি সম্পত্তির নথিও তদন্তকারীদের হাতে
এই মামলায় এর আগে প্রায় ২০ কোটি টাকার বেনামি সম্পত্তিতে বিনিয়োগ সংক্রান্ত নথি বাজেয়াপ্ত হয়েছিল বলেও জানা গিয়েছে। তদন্তকারীদের সন্দেহ, সাধারণ মানুষের কাছ থেকে সংগৃহীত অর্থ বিভিন্ন সংস্থার মাধ্যমে অন্য ব্যবসায় সরানো হয়ে থাকতে পারে। সেই অর্থের উৎস, লেনদেনের পথ এবং সম্পত্তি কেনার ক্ষেত্রে তার ব্যবহার হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তবে অভিযোগের সত্যতা এবং অর্থের প্রকৃত গতিপথ তদন্তের পরেই স্পষ্ট হবে। কোনও সংস্থার বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠা মানেই অপরাধ প্রমাণিত হওয়া নয়।
তদন্তে কোন দিকে নজর ইডির?
বর্তমান অভিযানে মূলত আর্থিক লেনদেন, বিনিয়োগের নথি এবং সম্পত্তি সংক্রান্ত তথ্য খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে। আগের অভিযানে বাজেয়াপ্ত হওয়া নথির সঙ্গে নতুন করে পাওয়া তথ্যের কোনও যোগসূত্র রয়েছে কি না, সেটিও তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ দিক হতে পারে।
সব মিলিয়ে, ‘অমৃত প্রজেক্ট লিমিটেড’ সংক্রান্ত মামলায় কলকাতায় ইডির নতুন তল্লাশি আর্থিক প্রতারণার অভিযোগকে ফের সামনে নিয়ে এসেছে। সোমবারের অভিযানে কী কী তথ্য উঠে আসে, নতুন করে কোনও সম্পত্তি বা নথি বাজেয়াপ্ত হয় কি না এবং তদন্তে কারও বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট অভিযোগ প্রতিষ্ঠিত হয় কি না, এখন সেদিকেই নজর।