নিউজ ডেস্ক: মহালয়া কাটলেই ভিআইপি রোডের ধার ঘেঁষে যেখানে মানুষের ঢল নামত, আলোর রোশনাই আর থিমের চমকে যে মণ্ডপ দেখতে রাজ্যজুড়ে হইচই পড়ে যেত সেই চেনা ছবিটা এবার ফিকে হতে বসেছে। শ্রীভূমি স্পোর্টিং ক্লাবের দুর্গাপুজো মানেই যাঁর উপস্থিতি ছিল প্রায় সমার্থক, সেই রাজ্যের প্রাক্তন দমকল মন্ত্রী সুজিত বসুর উৎসবের ঠিকানা এবার চার দেওয়ালের বন্দিশালা। পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় কলকাতা হাইকোর্টেও মিলল না স্বস্তি। তাঁর জামিনের আর্জি পত্রপাঠ খারিজ করে দিলেন বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ। ফলে এবারের পুজোয় প্রাক্তন মন্ত্রীর মুক্তি পাওয়ার সমস্ত পথই কার্যত বন্ধ হয়ে গেল।
আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, সুজিতবাবুর জামিনের মামলাটি নিয়ে গত কয়েক দিনে তীব্র নাটকীয় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। শুরুতে বিষয়টি উঠেছিল বিচারপতি শুভ্রা ঘোষের এজলাসে। শুনানি পর্ব সম্পূর্ণ হলেও এক অপ্রত্যাশিত অভিযোগকে ঘিরে তৈরি হয় জটিলতা। বিচারপতির কক্ষে ঢুকে তাঁর আইনজীবীরা একটি নির্দিষ্ট ফাইল নেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন বলে অভিযোগ ওঠে। এই ঘটনার পরই ক্ষুব্ধ হয়ে মামলাটি থেকে সরে দাঁড়ান বিচারপতি ঘোষ। স্বাভাবিকভাবেই এতে বড়সড় অস্বস্তিতে পড়েন অভিযুক্ত পক্ষ।
পরবর্তীতে প্রধান বিচারপতির নির্দেশে মামলাটি যায় বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের বেঞ্চে। তবে শেষরক্ষা হয়নি, বিচারপতি ঘোষ সরাসরি জামিনের আবেদন নাকচ করে দেন। যদিও এদিন নির্দেশ দেওয়ার সময় জামিন বাতিলের কারণ নিয়ে বিস্তারিত কোনো পর্যবেক্ষণ দেননি তিনি।
আদালতে শুনানির সময় সুজিত বসুর হয়ে জোরালো সওয়াল খাড়া করেন বর্ষীয়ান আইনজীবী অভিষেক মনু সিঙ্ঘভি ও সব্যসাচী বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁদের মূল যুক্তি ছিল, পুর নিয়োগ সংক্রান্ত যাবতীয় অনুসন্ধান ইতিমধ্যেই শেষ হয়ে গিয়েছে। তদন্ত শেষ হওয়ার পরেও শুধুমাত্র জেলে আটকে রাখা কোনোভাবেই সমীচীন বা আইনসঙ্গত নয়।
আইনজীবীরা তুলে ধরেন যে, কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই যখন ২০২৪-২৫ সালে তাদের চার্জশিট জমা দিয়েছিল, সেখানে সুজিত বসুর কোনো নামই ছিল না। অথচ এখন ইডি হঠাৎ করে তাঁকে গোটা ঘটনার ‘মাস্টারমাইন্ড’ বা মূল চক্রী হিসেবে চিহ্নিত করছে, যা অত্যন্ত অযৌক্তিক। প্রভাবশালী তত্ত্ব নাকচ করে তাঁরা জানান, সুজিতবাবুর স্থায়ী ঠিকানা কলকাতায়, তদন্তের স্বার্থে যেকোনো সময় হাজিরা দিতে তিনি প্রস্তুত।
অন্যদিকে, এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট এই জামিনের আর্জির তীব্র বিরোধিতা করে। কেন্দ্রীয় সংস্থার দাবি, এই চক্রের অন্যতম শিকড় মিডলম্যান অয়ন শীলকে জেরা করেই সুজিত বসুর নাম প্রকাশ্যে এসেছে। দক্ষিণ দমদম পুরসভায় অন্তত ১৫২ জন অযোগ্য চাকরিপ্রার্থীর নিয়োগের পেছনে সরাসরি সুপারিশ করেছিলেন এই প্রাক্তন মন্ত্রী। এই বেআইনি নিয়োগ প্রক্রিয়ার বিনিময়ে কোটি কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে এবং সেই অর্থ সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ঢুকেছে বলেই তদন্তকারীদের দাবি। গত ১১ মে গ্রেফতার হওয়ার পর থেকেই হেফাজতে রয়েছেন তিনি।
