নিউজ ডেস্ক: উত্তরপ্রদেশের ফতেহপুরে রান্নার সময় গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে ভয়াবহ দুর্ঘটনা। বিকট শব্দের পর হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে একটি দোতলা বাড়ির একাংশ। ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে এবং আগুনে পুড়ে মৃত্যু হয়েছে অন্তত চারজনের। তাঁদের মধ্যে তিন বছরের একটি শিশুও রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। ঘটনায় আরও তিনজন গুরুতর আহত হয়েছেন। তাঁদের কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। ফলে মৃতের সংখ্যা বাড়ার আশঙ্কাও রয়েছে।
ঘটনাটি ঘটেছে ফতেহপুর জেলার মালওয়ান এলাকায়। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবার সন্ধ্যায় বাড়িতে রান্না চলছিল। সেই সময় আচমকাই গ্যাস সিলিন্ডারে প্রবল বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণের শব্দ এতটাই তীব্র ছিল যে আশপাশের বাড়িগুলিও কেঁপে ওঠে। মুহূর্তের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে গোটা এলাকায়।
https://x.com/TOILucknow/status/2104566140517409237?s=20
এক স্থানীয় বাসিন্দার কথায়, আচমকা অত্যন্ত জোরে বিস্ফোরণের শব্দ শুনতে পান তাঁরা। প্রথমে কী ঘটেছে বুঝতে পারেননি। বাইরে বেরিয়ে এসে দেখেন, বাড়ির একটি অংশ ধসে পড়েছে এবং সেখান থেকে আগুনের লেলিহান শিখা বেরোচ্ছে।
বিস্ফোরণের খবর ছড়িয়ে পড়তেই স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত পুলিশ ও দমকলকে খবর দেন। খবর পেয়েই একাধিক দমকলের ইঞ্জিন ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। পুলিশ এবং উদ্ধারকারী দলের সদস্যরাও শুরু করেন উদ্ধারকাজ। ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে ভিতরে আটকে থাকা ব্যক্তিদের বের করার চেষ্টা শুরু হয়।
জানা গিয়েছে, দুর্ঘটনার সময় বাড়িটির ভিতরে মোট সাতজন ছিলেন। উদ্ধারকারীরা তিনজনকে গুরুতর আহত অবস্থায় বের করে আনতে সক্ষম হন। তাঁদের দ্রুত হাসপাতালে পাঠানো হয়। তবে ঘটনাস্থলেই চারজনের মৃত্যু হয়। মৃতদের মধ্যে একটি তিন বছরের শিশুও রয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
স্থানীয় হাসপাতাল সূত্রে খবর, আহতদের শরীরের প্রায় ৯০ শতাংশ পর্যন্ত পুড়ে গিয়েছে। তাঁদের কয়েকজনের অবস্থা অত্যন্ত সংকটজনক বলে জানা গিয়েছে। চিকিৎসকদের নজরদারিতে তাঁদের চিকিৎসা চলছে।
তবে ঠিক কী কারণে গ্যাস সিলিন্ডারে বিস্ফোরণ ঘটল, তা এখনও স্পষ্ট নয়। সিলিন্ডারে কোনও technical fault ছিল, নাকি গ্যাস লিক হয়ে বিস্ফোরণ ঘটেছে—তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে ঘটনাস্থল পরীক্ষা করা হচ্ছে।
ঘটনার খবর পৌঁছয় উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের কাছেও। দুর্ঘটনায় শোকপ্রকাশ করেছেন তিনি। নিহতদের পরিবারকে আর্থিক সাহায্য দেওয়ার কথা জানানো হয়েছে। পাশাপাশি আহতদের দ্রুত এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিত করার জন্য প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
এদিকে দুর্ঘটনার পর থেকেই এলাকায় শোকের পরিবেশ। কীভাবে এত বড় বিস্ফোরণ ঘটল এবং বাড়িটি এত দ্রুত ধসে পড়ল, তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যেও প্রশ্ন উঠেছে। প্রশাসনের তদন্তেই এখন স্পষ্ট হবে এই ভয়াবহ দুর্ঘটনার আসল কারণ।
একই সঙ্গে এই ঘটনা ফের মনে করিয়ে দিল, LPG ব্যবহারের ক্ষেত্রে সামান্য অসতর্কতাও কতটা ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনতে পারে। রান্নার সময় গ্যাসের গন্ধ, সংযোগের ত্রুটি বা সিলিন্ডারের কোনও অস্বাভাবিকতা নজরে এলে দ্রুত সতর্ক হওয়া জরুরি। তদন্তের রিপোর্ট সামনে আসার পরই দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
