নিউজ ডেস্ক: দুবাই থেকে ইজরায়েলের তেল আভিভের উদ্দেশে রওনা দিয়েছিল ফ্লাইদুবাইয়ের একটি যাত্রীবাহী বিমান। কিন্তু গন্তব্যে পৌঁছনোর আগেই মাঝ আকাশে তৈরি হল জরুরি পরিস্থিতি। বুধবার উড়ান চলাকালীন বিমানটি জরুরি সংকেত পাঠায় এবং উত্তর সৌদি আরবের আকাশসীমার কাছে এসে আচমকাই গতিপথ বদলে ফেলে। পরে বিমানটি সৌদি আরবের তাবুক শহরের দিকে এগিয়ে যায় বলে ফ্লাইট-ট্র্যাকিং তথ্য থেকে জানা গিয়েছে।
বিমানটি ছিল বোয়িং ৭৩৭ ম্যাক্স ৮। ফ্লাইট-ট্র্যাকিং তথ্য অনুযায়ী, উড়ানের সময় বিমানটির ট্রান্সপন্ডারে ‘৭৭০০’ কোড দেখা যায়। সাধারণত কোনও গুরুতর বা সাধারণ জরুরি পরিস্থিতি তৈরি হলে এই কোড ব্যবহার করা হয়। ফলে বিমানটির গতিপথ পরিবর্তনের খবর সামনে আসতেই আন্তর্জাতিক স্তরে উদ্বেগ তৈরি হয়।
এর মধ্যেই আরও একটি তথ্য ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়ায়। কয়েকটি ফ্লাইট ট্র্যাকার দাবি করে, বিমানটি অল্প সময়ের জন্য ‘৭৫০০’ কোডও ব্যবহার করেছিল। এই কোড সাধারণত বিমান ছিনতাইয়ের সঙ্গে সম্পর্কিত জরুরি সংকেত হিসেবে পরিচিত। তবে এই তথ্য স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। ফলে বিমানটি ছিনতাই হয়েছিল কি না, তা নিয়ে নানা জল্পনা শুরু হলেও পরে ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর মুখপাত্র স্পষ্ট করে জানান, ঘটনাটি ছিনতাই নয়।
ফ্লাইট-ট্র্যাকিং সংস্থা Flightradar24-এর তথ্য অনুযায়ী, বিমানটি সৌদি আরবের তাবুক শহরের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিল। ইজরায়েলি সংবাদমাধ্যম ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে জানা যায়, বিমানটি সৌদি আরবেই অবতরণ করার সম্ভাবনা রয়েছে। বিমানটি কেন জরুরি সংকেত পাঠাল এবং ঠিক কী কারণে তার গতিপথ বদলানো হল, তা নিয়ে বিস্তারিত তথ্য তখনও প্রকাশ্যে আসেনি।
ঘটনাটি নিয়ে ইজরায়েলি প্রশাসনের মধ্যেও তৎপরতা শুরু হয়। রয়টার্সের প্রতিবেদনে তিন ইজরায়েলি নিরাপত্তা আধিকারিকের উদ্ধৃতি দিয়ে জানানো হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ফ্লাইদুবাইয়ের ওই বিমান সংক্রান্ত পরিস্থিতি নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে পরামর্শ করছেন।
এক ইজরায়েলি সূত্র জানিয়েছে, বিমানটি সৌদি আরবে অবতরণ করার পর পরিস্থিতি সম্পর্কে আরও পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যেতে পারে। অর্থাৎ, আপাতত বিমানের গতিপথ পরিবর্তনের সঠিক কারণ নিয়ে নিশ্চিত কোনও তথ্য সামনে আসেনি।
দুবাই থেকে তেল আভিভের বিমানপথে এমন জরুরি পরিস্থিতি স্বাভাবিকভাবেই আন্তর্জাতিক নজর কেড়েছে। বিশেষ করে ‘৭৭০০’ জরুরি সংকেত এবং ‘৭৫০০’ কোড ব্যবহারের খবর ছড়িয়ে পড়ায় উদ্বেগ আরও বেড়েছে। তবে ইজরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর মুখপাত্রের বক্তব্য অনুযায়ী, এটি ছিনতাইয়ের ঘটনা নয়।
ঘটনাটি এখনও বিকাশমান। বিমানটি সৌদি আরবে নিরাপদে অবতরণ করার পরই জরুরি পরিস্থিতির প্রকৃত কারণ সম্পর্কে আরও নির্দিষ্ট তথ্য সামনে আসতে পারে।
