নয়াদিল্লি: আগামী ১০ অক্টোবর জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফার দাবিতে যন্তরমন্তরে জমায়েতের ডাক দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি। কিন্তু জমায়েতের অনুমতি দেয়নি দিল্লি পুলিশ। এবার এই প্রসঙ্গে মুখলেন ককরোচ জনতা পার্টির প্রধান মুখপাত্র সৌরভ দাস। তিনি বলেন, 'দিল্লিতে শাটডাউন মানে সরকার ভয় পেয়েছে। শুধু জ্ঞানেশ কুমার নয় সবাইকেই যেতে হবে। কেউ রেহাই পাবেন না।'
দিন কয়েকদিন ধরেই জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফার দাবিতে মুম্বইয়ে জমায়েত করেছিল সিজেপি। সেখান থেকেই যন্তরমন্তরে ফের প্রতিবাদ কর্মসূচির ঘোষণা করা হয়। শনিবার দিল্লিতে ককরোচ জনতা পার্টির বিক্ষোভের জেরে রেল ও মেট্রো পরিষেবায় বড়সড় প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। আগামীকালের প্রতিবাদ কর্মসূচি ঘিরে চরম বিশৃঙ্খলা ও ভয়াবহ যানজটের আশঙ্কায় একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। ইতিমধ্যে, শুক্রবার রাতের হাওড়া এবং শিয়ালদহ থেকে দিল্লিগামী দুটি গুরুত্বপূর্ণ রাজধানী এক্সপ্রেস-সহ একাধিক ট্রেন বাতিল করেছে রেল। পশ্চিমবঙ্গ-সহ দেশের বিভিন্ন রাজ্য থেকে আসা আন্দোলনকারীদের দিল্লিতে পৌঁছোনো আটকাতে রেল, পুলিশ ও প্রশাসনকে ব্যবহার করে একের পর এক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হচ্ছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে দিল্লি মেট্রোর ৫৭টি স্টেশনের প্রবেশ ও প্রস্থানের গেট বন্ধ রাখার বিষয়টি বিবেচনা করতে দিল্লি মেট্রো রেল কর্পোরেশনকে (DMRC) অনুরোধ জানিয়েছে দিল্লি পুলিশ। পাশাপাশি, প্রয়োজন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট স্টেশনগুলিতে মেট্রো চলাচলের ব্যবধান বাড়ানোর প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে। পুলিশের প্রস্তাব অনুযায়ী, ৯ অক্টোবর রাত ৯টা থেকে এই বিধিনিষেধ কার্যকর হতে পারে। এই স্টেশনগুলোর মধ্য দিয়ে চলাচলকারী মেট্রো ট্রেনগুলোর পরিষেবার সংখ্যাও কমিয়ে আনা হতে পারে।
যন্তর মন্তর সংলগ্ন এলাকায় জারি করা হয়েছে ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার ১৬৩ ধারা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে মোতায়েন করা হয়েছে ২৬ হাজারেরও বেশি কেন্দ্রীয় বাহিনীর সদস্য। পাশাপাশি, অন্যান্য রাজ্য থেকেও নিরাপত্তা বাহিনী নিয়ে আসা হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। প্রতিবাদ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে রাজধানীতে সতর্ক প্রশাসন। সূত্রের খবর, সম্ভাব্য জমায়েত ও বিক্ষোভ মোকাবিলায় একাধিক জায়গায় নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। তৈরি রাখা হয়েছে অস্থায়ী ডিটেনশন ক্যাম্পও। প্রতিবাদকারীদের জমায়েত নিয়ন্ত্রণ, গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ভবনগুলির নিরাপত্তা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখাই প্রশাসনের মূল লক্ষ্য। তবে এই বিপুল বাহিনী মোতায়েনের মধ্যেই প্রতিবাদ কর্মসূচিকে ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বেড়েছে। প্রতিবাদকারীরা শেষ পর্যন্ত কতটা জমায়েত করতে পারেন, প্রশাসন কীভাবে পরিস্থিতি সামলায় এবং কোনও সংঘাত বা গ্রেফতারির ঘটনা ঘটে কি না, তা নিয়েই জল্পনা।
