স্পোর্টস ডেস্ক: বিশ্বকাপের বাকি নেই আর এক বছরও। তার পরেই দক্ষিণ আফ্রিকা, জিম্বাবুয়ে ও নামিবিয়ায় বসতে চলেছে ওডিআই বিশ্বকাপের আসর (CWC 2027)। গত ২০২৩ সালে ঘরের মাঠে ফাইনালে অস্ট্রেলিয়ার কাছে হেরে স্বপ্নভঙ্গ হয়েছিল ভারতের। এ বার সেই আক্ষেপ মুছে বিশ্বকাপ জয়ের লক্ষ্যে নামতে চাইবে টিম ইন্ডিয়া। তবে তার আগে ক্রিকেটপ্রেমীদের নজর আসন্ন বিশ্বকাপের সূচির দিকে। কবে, কোথায়, কার বিরুদ্ধে খেলবে কোন দল, তা জানতে অপেক্ষা আর মাত্র কয়েক দিনের। এক ক্রিকেটীয় ওয়েবসাইটের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগামী ১ অক্টোবর, বৃহস্পতিবার কেপটাউনে ২০২৭ সালের বিশ্বকাপের পূর্ণাঙ্গ সূচি ঘোষণা করতে চলেছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)। একই দিনে শুরু হবে টিকিটের জন্য নাম নথিভুক্ত করার প্রক্রিয়াও। ফলে বিশ্বকাপের প্রস্তুতিতে আরও এক ধাপ এগিয়ে যেতে চলেছে ক্রিকেটের নিয়ামক সংস্থা।
উক্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, মহাত্মা গান্ধীর স্মরণে ২০২৭ সালের ওডিআই বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার কথা ২ অক্টোবর গান্ধী জয়ন্তীর দিন। অন্যদিকে বিশ্বকাপের ফাইনাল হতে পারে নভেম্বরের ২১ তারিখে। অর্থাৎ বিশ্বকাপ জিততে হলে ভারতীয় ক্রিকেটের ইতিহাসে অন্যতম কালো তারিখ ১৯ নভেম্বর—তার ঠিক দু'দিন পরই ফাইনাল খেলতে হবে মেন ইন ব্লু-কে। দক্ষিণ আফ্রিকা, জিম্বাবুয়ে এবং নামিবিয়া যৌথভাবে আয়োজন করবে এই বিশ্বকাপ। বৃহস্পতিবার কেপটাউনে আইসিসি এবং ক্রিকেট দক্ষিণ আফ্রিকার তরফে প্রতিযোগিতার সূচি প্রকাশ করা হবে। পাশাপাশি ওই দিন থেকেই শুরু হবে টিকিটের লটারিতে অংশ নেওয়ার জন্য নাম নথিভুক্ত করার প্রক্রিয়া। তবে ১ অক্টোবর থেকেই সরাসরি টিকিট কেনার সুযোগ পাবেন না দর্শকেরা। প্রথমে টিকিটের লটারিতে অংশ নেওয়ার জন্য আবেদন করতে হবে। পরবর্তী সময়ে সেই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে টিকিট পাওয়ার সুযোগ মিলবে। ফলে বিশ্বকাপের ম্যাচ মাঠে বসে দেখার অপেক্ষায় থাকা ক্রিকেটপ্রেমীদের জন্যও বৃহস্পতিবার গুরুত্বপূর্ণ দিন হতে চলেছে।
এ বারের বিশ্বকাপে অংশ নেবে মোট ১৪টি দল। তার মধ্যে ১০টি দলের জায়গা ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যেই নিশ্চিত হয়ে যাওয়ার কথা। আয়োজক দেশ হিসেবে দক্ষিণ আফ্রিকা ও জিম্বাবুয়ে ইতিমধ্যেই বিশ্বকাপ খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে। বাকি ৮টি দল বেছে নেওয়া হবে আইসিসির ওডিআই ক্রিকেটের ক্রমতালিকা অনুযায়ী। বর্তমানে সেই তালিকায় এক নম্বরে রয়েছে ভারত। দ্বিতীয় স্থানে নিউজিল্যান্ড। পাকিস্তান রয়েছে চতুর্থ, অস্ট্রেলিয়া পঞ্চম এবং ইংল্যান্ড ষষ্ঠ স্থানে। এ ছাড়া শ্রীলঙ্কা, আফগানিস্তান ও বাংলাদেশও ক্রমতালিকার ভিত্তিতে সরাসরি বিশ্বকাপে খেলার দৌড়ে রয়েছে। দক্ষিণ আফ্রিকা আয়োজক দেশ হিসেবে সরাসরি যোগ্যতা অর্জন করায় বাংলাদেশেরও বিশ্বকাপে জায়গা পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কারণ, বাংলাদেশের অবস্থান নবম হলেও দক্ষিণ আফ্রিকার সরাসরি যোগ্যতা অর্জনের ফলে ক্রমতালিকার ভিত্তিতে প্রথম আটে থাকা দলগুলির মধ্যে অন্যদের সুযোগ তৈরি হচ্ছে।
তবে বিশ্বকাপের বাকি ৪টি জায়গা নির্ধারিত হবে যোগ্যতা অর্জনকারী প্রতিযোগিতার মাধ্যমে। আগামী বছরের গোড়ার দিকে সেই প্রতিযোগিতা হওয়ার কথা। সেখানে সফল ৪টি দল বিশ্বকাপে খেলার ছাড়পত্র পাবে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের মতো দলকেও মূল পর্বে জায়গা করে নিতে যোগ্যতা অর্জনকারী প্রতিযোগিতায় খেলতে হবে। ফলে বিশ্বকাপের মূল পর্বে কারা জায়গা পাবে, তা নিয়ে লড়াই এখনও বাকি। ২০২৩ সালের বিশ্বকাপে অপরাজিত থেকে ফাইনালে উঠেও শেষ হাসি হাসতে পারেনি ভারত। এ বার দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে সেই আক্ষেপ মেটানোর সুযোগ পাবেন রোহিত শর্মারা। তবে তার আগে ১ অক্টোবর প্রকাশিত সূচি থেকেই স্পষ্ট হয়ে যাবে বিশ্বকাপের লড়াইয়ের প্রাথমিক ছবিটা।
