স্পোর্টস ডেস্ক: লক্ষ্যভেদে নিখুঁত নিশানা। আর তাতেই বিশ্বরেকর্ড ছুঁয়ে এশিয়াডে সোনা ধরে রাখল ভারতের মহিলা কম্পাউন্ড তিরন্দাজি দল। চিনকে ২৩৮-২৩৪ পয়েন্টে হারিয়ে বুধবার সাতসকালেই স্বর্ণ পদক জিতলেন জ্যোতি সুরেখা ভেন্নাম, চিকিথা তানিপার্থি এবং প্রীতিকা প্রদীপ। শুধু সোনাই নয়, দক্ষিণ কোরিয়ার গড়া বিশ্বরেকর্ডেও ভাগ বসালেন ভারতীয় তিরন্দাজেরা। ২০১৪ সালে ইনচন এশিয়াডে ২৩৮ পয়েন্টের নজির গড়েছিল কোরিয়া। বুধবার সেই নজিরই ছুঁয়ে ফেলল ভারত। চলতি এশিয়াডে এটি ভারতের সপ্তম সোনা। একই সঙ্গে পরপর দু’টি এশিয়াডে মহিলা কম্পাউন্ড তিরন্দাজিতে সোনা জয়ের নজিরও গড়ল ভারত।
ফাইনালে শুরু থেকেই চিনের বিরুদ্ধে দাপট দেখায় ভারতীয় দল। প্রথম রাউন্ডেই ৬০-৫৮ পয়েন্টে এগিয়ে যান জ্যোতিরা। পরপর নিখুঁত নিশানায় প্রতিপক্ষের উপর চাপ বাড়াতে থাকেন তাঁরা। দ্বিতীয় রাউন্ডেও একই ব্যবধানে এগিয়ে যায় ভারত। ফলে দুই রাউন্ড শেষে ব্যবধান বেড়ে দাঁড়ায় ৪ পয়েন্টে। তৃতীয় রাউন্ডে চিন কিছুটা লড়াইয়ে ফেরার চেষ্টা করলেও ভারতীয় তিরন্দাজদের ছন্দে চিড় ধরাতে পারেনি। শেষ রাউন্ডের আগে ভারত এগিয়ে ছিল ১৭৮-১৭৬ পয়েন্টে। ফলে শেষ পর্যায়ে স্নায়ুর চাপ সামলে সোনা জেতাই ছিল জ্যোতিদের সামনে মূল চ্যালেঞ্জ।
https://x.com/mansukhmandviya/status/2105124017908961778
শেষ রাউন্ডে অবশ্য কোনও ভুল করেননি ভারতীয় তিরন্দাজেরা। চিনের তিরন্দাজেরা দু’টি ৯ পয়েন্টের শট মারতেই সুযোগ কাজে লাগায় ভারত। ৬টি নিখুঁত ১০ পয়েন্টের শটে নিজেদের আধিপত্য আরও বাড়িয়ে নেন জ্যোতি, চিকিথা ও প্রীতিকা। শেষ পর্যন্ত ২৩৮ পয়েন্টে পৌঁছে বিশ্বরেকর্ডের সমান স্কোর গড়ে সোনা নিশ্চিত করেন তাঁরা। অন্যদিকে ২৩৪ পয়েন্টে থেমে রুপো নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয় চিনকে। দক্ষিণ কোরিয়া চিনা তাইপেকে হারিয়ে ব্রোঞ্জ জেতে। উল্লেখযোগ্য ভাবে, ফাইনালের আগে সেমিফাইনালেও কঠিন লড়াইয়ের মুখে পড়েছিল ভারত। দক্ষিণ কোরিয়াকে ২৩৪-২৩৩ পয়েন্টে হারিয়ে ফাইনালে উঠেছিলেন জ্যোতিরা।
এ দিন শুধু মহিলাদের দলগত বিভাগেই নয়, মিক্সড কম্পাউন্ড বিভাগেও পদকের লড়াইয়ে জায়গা করে নিয়েছে ভারত। চিকিথা তানিপার্থি ও সাহিল রাজেশ যাদবের জুটি সেমিফাইনালে থাইল্যান্ডকে ১৫৬-১৫৫ পয়েন্টে হারিয়ে ফাইনালে উঠেছে। ফলে ওই বিভাগেও সোনা জয়ের সুযোগ তৈরি হয়েছে ভারতের সামনে। সেমিফাইনালে শুরু থেকেই এগিয়ে ছিলেন ভারতীয় জুটি। শেষ দিকে চিকিথার একটি ৯ পয়েন্টের শট সত্ত্বেও স্নায়ুর চাপ সামলে দলকে জয় এনে দেন সাহিল। সব মিলিয়ে এশিয়াডে ভারতীয় তিরন্দাজদের দাপট অব্যাহত। ২০২৩ সালে হাংঝৌ এশিয়াডেও মহিলা কম্পাউন্ড বিভাগে সোনা জিতেছিল ভারত। এ বারও সেই সাফল্যের পুনরাবৃত্তি করে বিশ্বরেকর্ড ছুঁয়ে নতুন নজির গড়লেন জ্যোতিরা।
