নিউজ ডেস্ক: ছাত্র সংসদ নির্বাচনের আশ্বাস দিয়েও আন্দোলন থামাতে পারল না জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। বরং সোমবার নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠল দিল্লির এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ক্যাম্পাস। আন্দোলনরত পড়ুয়াদের সঙ্গে আধাসেনার সংঘর্ষের অভিযোগ উঠেছে। কয়েক জন বিক্ষোভকারীকে আটকও করা হয়েছে বলে খবর। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরের নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া স্টুডেন্টস ইউনিয়ন (JMISU)-এর নির্বাচন চালুর দাবিতে আন্দোলন করছেন পড়ুয়ারা। ২০০৬ সালের পর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংসদের নির্বাচন হয়নি বলে তাঁদের অভিযোগ। প্রায় দু’সপ্তাহ ধরে চলা এই আন্দোলনে পড়ুয়াদের দাবি, শুধু নির্বাচনের আশ্বাস দিলে হবে না, কবে নির্বাচন হবে তার নির্দিষ্ট দিনক্ষণ ঘোষণা করতে হবে।
সোমবার বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের তরফে জানানো হয়, ছাত্র সংসদের সংবিধান অনুমোদিত হওয়ার ১৫ দিনের মধ্যে নির্বাচন আয়োজন করা হবে। পাশাপাশি, আন্দোলনের সময় পড়ুয়াদের বিরুদ্ধে জারি করা সাসপেনশনের নির্দেশ এবং শোকজ নোটিস প্রত্যাহারের কথাও ঘোষণা করা হয়। আন্দোলন চলাকালীন নিরাপত্তাকর্মীদের আচরণ খতিয়ে দেখতে একটি তদন্ত কমিটি গঠনের সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে।
তবে কর্তৃপক্ষের এই ঘোষণায় সন্তুষ্ট নন আন্দোলনকারীরা। তাঁদের বক্তব্য, ছাত্র সংসদের সংবিধান কবে অনুমোদিত হবে, তা স্পষ্ট করা হয়নি। ফলে নির্বাচনের নির্দিষ্ট তারিখও এখনও অনিশ্চিত। এই কারণেই আন্দোলন প্রত্যাহার করতে রাজি নন তাঁরা।
১২ দিন ধরে অনশন, কী বলছেন পড়ুয়ারা?
আন্দোলনরত দুই পড়ুয়া অনির্দিষ্টকালের জন্য অনশন করছেন। তাঁদের মধ্যে একজন রেহান খান। টানা ১২ দিন ধরে অনশন চালিয়ে যাওয়া রেহানের অভিযোগ, পড়ুয়াদের মূল দাবি থেকে নজর ঘোরানোর চেষ্টা করছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। নির্বাচনের নির্দিষ্ট সময়সীমা ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
রেহানের দাবি, কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ২০ ডিসেম্বরের মধ্যে ছাত্র সংসদের সংবিধানের খসড়া তৈরি করা হতে পারে। এরপর সংবিধান অনুমোদিত হলে ১৫ দিনের মধ্যে নির্বাচনের দিন ঘোষণা করা হবে। কিন্তু খসড়াটি আদৌ কবে অনুমোদিত হবে, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে আন্দোলনকারীদের। তাঁদের দাবি, পুরো প্রক্রিয়ার জন্য একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা ঘোষণা করতে হবে।
অনলাইন ক্লাস, বন্ধ গ্রন্থাগার
পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সমস্ত কোর্সের ক্লাস অনলাইনে করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পড়ুয়াদের আপাতত ক্যাম্পাসে না আসার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না আসা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের গেট এবং গ্রন্থাগার বন্ধ রাখার কথা জানানো হয়েছে।
এর আগে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনার জন্য সাত সদস্যের অধ্যাপক কমিটি গঠন করেছিল কর্তৃপক্ষ। ছাত্র সংসদের সংবিধানের খসড়া তৈরির জন্য পৃথক কমিটি গঠনের বিজ্ঞপ্তি জারি হয়েছিল ২১ অক্টোবর।
কী কী দাবি পড়ুয়াদের?
নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে নির্বাচন, শাস্তিমূলক পদক্ষেপ প্রত্যাহার এবং নিরাপত্তাকর্মীদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের তদন্ত এই তিনটি প্রধান দাবিতে অনড় আন্দোলনকারীরা। পাশাপাশি, ছাত্র সংসদের সংবিধান তৈরির প্রক্রিয়ায় পড়ুয়াদের প্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্ত করার দাবিও উঠেছে।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সাম্প্রতিক ঘোষণা সত্ত্বেও অচলাবস্থা কাটেনি। এখন দেখার, নির্বাচনের নির্দিষ্ট সময়সূচি নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে সমঝোতা হয় কি না। ততক্ষণ জামিয়া ক্যাম্পাসে উত্তেজনা বজায় থাকার আশঙ্কা রয়েছে।




