জয়নগর, নিউজ ডেস্ক: দলীয় কর্মসূচিতে যোগ দিতে গিয়ে প্রকাশ্য রাস্তায় দুষ্কৃতী হামলার মুখে পড়লেন বারুইপুর পূর্বের তৃণমূল বিধায়ক বিভাস সরদার। আক্রান্ত হলেন তাঁর গাড়ির চালক ও সঙ্গীরাও। ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে বিধায়কের গাড়িটি। ঘটনাটি ঘটেছে জয়নগর থানার মনসাতলা সংলগ্ন এলাকায়। গুরুতর জখম অবস্থায় স্থানীয় বাসিন্দাদের সহায়তায় তাঁকে তড়িঘড়ি উদ্ধার করে বারুইপুর মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। বর্তমানে তিনি সেখানেই চিকিৎসাধীন। এই হামলার জেরে গোটা এলাকা জুড়ে তীব্র রাজনৈতিক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, নির্ধারিত রাজনৈতিক কর্মসূচিতে যোগ দিতে রবিবার সকালে মনসাতলার দিকে যাচ্ছিল বিভাসবাবুর কনভয়। গন্তব্যের কাছাকাছি পৌঁছতেই আচমকা একদল যুবক পথ আটকে দাঁড়ায়। গাড়িটির গতি কমতেই মুহূর্তের মধ্যে বাঁশ, লাঠি ও লোহার রড নিয়ে ঘিরে ফেলা হয় সেটি। চালকের আসনে ও জানলার কাচে এলোপাথাড়ি আঘাত শুরু হয়। কিছু বুঝে ওঠার আগেই দুষ্কৃতীরা গাড়ির দরজা খোলার চেষ্টা করে এবং জানলা দিয়ে বিধায়কের উপর চড়াও হয়। অতর্কিত এই হামলায় বিভাসবাবুর নাক ও মুখ ফেটে রক্তপাত শুরু হয়। শরীরের একাধিক অংশে গভীর চোট লাগে।
হাসপাতাল সূত্রে খবর, বিধায়কের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল হলেও তাঁর দেহে একাধিক ক্ষতের দাগ রয়েছে। আঘাতের গভীরতা বুঝতে চিকিৎসকরা দ্রুত তাঁর মাথার সিটি স্ক্যান করান। নাক ও মুখে প্রাথমিক সেলাই এবং ড্রেসিং করা হয়েছে। চিকিৎসকদের একটি বিশেষ দল তাঁর শারীরিক পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে।
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই হাসপাতালে দলীয় কর্মী-সমর্থকদের ভিড় জমতে শুরু করে। ক্ষোভে ফেটে পড়েন তৃণমূল নেতা-কর্মীরা। খবর পেয়ে এলাকায় উত্তেজনা ছড়ানো রুখতে মনসাতলা মোড় ও হাসপাতাল চত্বরে বিশাল পুলিশবাহিনী মোতায়েন করা হয়। নামানো হয়েছে র্যাফ।
পুলিশের এক আধিকারিক জানান, “ঘটনার নেপথ্যে কে বা কারা রয়েছে এবং এটি পূর্বপরিকল্পিত কোনো রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান রেকর্ড করা হচ্ছে এবং আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করার কাজ চলছে।”
অন্যদিকে, এই হামলার প্রেক্ষিতে রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া জানতে বিজেপির জয়নগর সাংগঠনিক জেলা সভাপতি উৎপল নস্করের সঙ্গে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর পক্ষ থেকে কোনো সাড়া মেলেনি। সাতসকালে একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির উপর এমন ধারালো হামলায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠছে। এখনও পর্যন্ত এই ঘটনায় কোনো লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে কাউকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি। এলাকায় নতুন করে অশান্তি এড়াতে টহলদারি জোরদার রেখেছে জয়নগর ও বারুইপুর থানার পুলিশ।