নিউজ ডেস্ক: পাহাড়ে শীতের আগমনী বার্তা ছিলই, তবে প্রকৃতির খেয়ালে তা রূপ নিল শুভ্র তুষারপাতে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে দ্বিতীয়বার বরফে ঢাকল দ্বাদশ জ্যোতির্লিঙ্গের অন্যতম পবিত্র তীর্থক্ষেত্র কেদারনাথ ধাম। টানা তুষারপাতের জেরে রুদ্রপ্রয়াগ ও সংলগ্ন পাহাড়ি উপত্যকা জুড়ে তাপমাত্রার পারদ নেমেছে অনেকটাই। অথচ কনকনে এই ঠান্ডা আর প্রতিকূল আবহাওয়াও ভক্তদের অদম্য আবেগকে বিন্দুমাত্র টলাতে পারেনি। সাদা বরফের চাদরে মোড়া পথ মাড়িয়ে মন্দিরের দিকে এখনও মানুষের অবিরাম পদযাত্রা অব্যাহত।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এদিন সকাল থেকেই আকাশ মেঘলা ছিল। দুপুরের দিক থেকে মন্দিরের চূড়া এবং আশপাশের পাহাড়ের ঢালে শুরু হয় হালকা থেকে মাঝারি তুষারপাত। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তুষারপাতের তীব্রতা বাড়ে। গত কয়েক দিনের মধ্যে এটি দ্বিতীয় দফায় তুষারপাত হওয়ায় কেদারপুরী চত্বরে ঠান্ডার দাপট এক লাফে অনেকটাই বেড়ে গিয়েছে। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও তীর্থযাত্রীদের একাংশ জানাচ্ছেন, বরফ পড়ার কারণে আঙুল অসাড় হয়ে আসার মতো ঠান্ডা অনুভূত হচ্ছে। বাতাস বইতেই জবুথবু অবস্থা রুদ্রপ্রয়াগ জেলার উঁচু এলাকাগুলির।
তবে প্রতিকূলতার এই ছবিটির উল্টো পিঠে রয়েছে মানুষের অবিচল বিশ্বাস। আবহাওয়া খারাপের খবর পৌঁছালেও ধামে পুণ্যার্থীদের আগমন স্তব্ধ হয়নি। বরং মন্দিরের গর্ভগৃহে বাবা কেদারের দর্শন পেতে ভক্তদের দীর্ঘ লাইন চোখে পড়ছে। মোটা পশমি পোশাক, রেইনকোট আর হাতে লাঠি নিয়ে তীর্থযাত্রীরা পা রাখছেন বরফ জমা পাহাড়ি রাস্তায়। অনেকে শৈত্যের তীব্রতা ভুলে বরফে মোড়া মন্দিরের সামনে হাতজোড় করে প্রার্থনায় মগ্ন, কারও চোখেমুখে আবার ধামে পৌঁছানোর স্বস্তি ও আনন্দ।
মন্দির চত্বরে নিরাপত্তা ও ভক্তদের সুবিধার্থে সতর্ক রয়েছে জেলা প্রশাসন। বরফ জমে যাতে চলাচলের পথ বন্ধ না হয়ে যায়, সেজন্য রাস্তা পরিষ্কারের কাজ দ্রুত শুরু করা হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে যাত্রীদের আবহাওয়ার পূর্বাভাস দেখে এবং পর্যাপ্ত গরম পোশাক ও প্রয়োজনীয় ওষুধ সাথে নিয়ে সতর্কভাবে যাত্রা করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
শীতকালীন বন্ধের দিন এগিয়ে আসার আগে প্রকৃতির এই অপরূপ দৃশ্য যেমন এক অদ্ভুত প্রশান্তি এনেছে।




