বাগুইহাটি, নিউজ ডেস্ক: মানুষের শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ গুলির মত অন্যতম বৃক্ব তথা কিডনি। শরীরের ভারসাম্য রক্ষা হয় গুরুত্বপূর্ণ এই অঙ্গের মাধ্যমে। কিন্তু শরীরের এই জরুরি অঙ্গই যদি অসাধু চক্রের মাধ্যমে পাচার করা হয় তাহলে জীবন নিয়ে টানাটানি হতে পারে। সম্প্রতি এমনই এক ঘটনা যেন হৃদয় কাঁপিয়ে দিয়েছে সাধারণ মানুষের।
কাজের আশায় অনেকেই বিভিন্ন জায়গায় ছুটে যান। অনেক ক্ষেত্রেই চাকরিপ্রার্থীরা যাচাই করেও দেখেন না কোথায় যাচ্ছেন। কিন্তু সেখানে গিয়ে বিভিন্ন সময়তেই পড়ে যেতে অসাধু চক্রের ফাঁদে। সম্প্রতি, এমনই এক কিডনি পাচার চক্রের হদিস মিলেছিল। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে গ্রেফতারও করা হয়েছে অভিযুক্তকে। এবার সেই ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে পুলিশের হাতে। যা রীতিমতো রাতের ঘুম উড়িয়ে দিতে পারে।
প্রথমে দেওয়া হতো চাকরির প্রতিশ্রুতি। তারপর ভুলিয়ে-ভালিয়ে সেই সমস্ত ব্যক্তিদের নিয়ে যাওয়া হতো ভিন রাজ্যে। আর তারপরই শুরু হতো আসল খেলা। চাকরির প্রতিশ্রুতি দিয়ে আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়া মানুষদের টার্গেট করার অভিযোগ উঠল কিডনি পাচারচক্রের বিরুদ্ধে। মিথ্যে কথা বলে তাঁদের নিয়ে যাওয়া হত ভিন রাজ্যে। সেখানেই কিডনি পাচারের কারবার চলত বলে তদন্তকারীরা সন্দেহ করেছেন। এমনকি, এই পাচার চক্রের সঙ্গে আন্তর্জাতিক যোগও রয়েছে বলে জানিয়েছেন তদন্তকারীরা। এই ঘটনায় বাংলাদেশী নাগরিক রাসেল আহমেদকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার রাতে বাগুইআটির আটঘড়া ফুলতলা এলাকা থেকে তাঁকে পাকড়াও করা হয়। এবং পরে তাঁকে বিধাননগর দক্ষিণ থানার পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়। জানা গিয়েছে, ধৃত এক মিডেলম্যানকে জিজ্ঞাসাবাদের পর কিডনি পাচার মামলায় রাসেলের নাম সামনে আসে। এর আগে প্রভাস মন্ডল নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছিল বিধাননগর পুলিশ। এবং তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করার পরেই রাসেলের সন্ধান খুঁজে পান তদন্তকারীরা। তদন্তকারীদের দাবি, এই কিডনিপাচার চক্রে রাসেলের যোগ নতুন নয়। জানা গিয়েছে, ২০২৪ সালেও কিডনি পাচারের অভিযোগে তিনি দিল্লি পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়েছিলেন।
তদন্তকারীদের বক্তব্য, মূলত আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়া মানুষদের টার্গেট করত এই পাচারচক্র। তাঁদের অন্য রাজ্যে নিয়ে যাওয়া হত চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে। পরে, তাঁদের কিডনি বেআইনিভাবে সংগ্রহের চেষ্টা চলত বলে অভিযোগ। এই ঘটনার সূত্রপাত ঘটেছে গত ১৮ আগস্ট। এদিন এক ভুক্তভোগীর বাবা পুলিশের কাছে অভিযোগ জানাতে, তদন্ত শুরু করে বিধাননগর থানার পুলিশ। এরপর প্রভাস মন্ডল নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়। অভিযোগ তিনি এই পাচারচক্রের মধ্যস্থতার কাজ করতেন।
এদিকে, রাসেলকে নিয়ে পুলিশের হাতে উঠে এসেছে আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য। তদন্তকারীদের দাবি, তাঁর কাছ থেকে একটি রেট চার্ট উদ্ধার হয়। এই রেট চার্ট থেকে বিভিন্ন হাসপাতালের নথিপত্রের হদিস মিলেছে। এমনকি, সেখানে কোন হাসপাতালে কত কিডনির প্রয়োজন, সেই সংক্রান্ত তথ্যও নথিতে ছিল বলে জানিয়েছেন তদন্তকারীরা।
পুলিশের অনুমান, এই কিডনি পাচারচক্রের যোগাযোগ ভারত-বাংলা সীমান্ত পেরিয়ে আরও বিস্তৃত হতে পারে। এখন রাসেলকে জেরা করে এই চক্রের মূল মাথা এবং অন্যান্য দালালের সন্ধান চালাচ্ছে বিধাননগর দক্ষিণ পুলিশ। এই পাচারচক্রের জাল আর কত দূর বিস্তৃত, সেইদিকও খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।



