নিউজ ডেস্ক: শোবার ঘর ভেঙে সোজা বেসমেন্টে! লিভারপুলে চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়েও প্রাণে বাঁচলেন দম্পতি। ঘরের ব্যক্তিগত মুহূর্তে এমন ভয়াবহ অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হতে হবে, তা দুঃস্বপ্নেও কল্পনা করতে পারেননি ইংল্যান্ডের লিভারপুলের এক দম্পতি। শোবার ঘরের মেঝে আচমকা ভেঙে প্রায় তিন তলা নিচে আছড়ে পড়েও অলৌকিকভাবে প্রাণহানি থেকে রক্ষা পেয়েছেন তাঁরা। প্রাথমিক ভাবে মানসিক সামান্য কিছু চোট লেগেছে তাদের, যা উদ্ধারকর্মীদের কাছেও এক বিস্ময়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় আড়াইশ বছরের পুরোনো একটি ঐতিহাসিক ভবনে ভাড়া থাকতেন ওই দম্পতি। ঘটনার সময় তাঁরা শোবার ঘরে একান্ত মুহূর্তে ছিলেন। হঠাৎ বিকট শব্দে কাঁপতে শুরু করে ঘরের ছাদ ও মেঝে। মুহূর্তের মধ্যে বিছানা সহ ঘরের মেঝের পাটাতন ভেঙে নিচের দিকে ধসে পড়ে। পরপর তিনটি তলার কাঠামো ভেঙে তারা সোজা গিয়ে পড়েন ভবনের একদম নিচের বেসমেন্টে। ধসে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে ধুলো, কাঠের টুকরো ও ইটের ধ্বংসাবশেষ। কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই পুরো ঘরটি কার্যত ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়।
ওই দম্পতির মধ্যে স্বামীর শারীরিক ওজন প্রায় ২৯০ কেজি এবং স্ত্রীর ওজন প্রায় ২০৪ কেজি। দু’জনের সম্মিলিত ওজন ছিল প্রায় ৫০০ কেজি বা ১,০০০ পাউন্ডের কাছাকাছি। হঠাৎ এই প্রচণ্ড ভর এবং ভবনের অতি জরাজীর্ণ কাঠামোর টানাপোড়েনেই এমন মর্মান্তিক বিপর্যয় ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। বিকট শব্দ শুনে প্রতিবেশীরা ছুটে এসে জরুরি পরিষেবা বিভাগে খবর দেন। উদ্ধারকর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে তাঁদের উদ্ধার করেন। এত ওপর থেকে ভারী ধ্বংসাবশেষের সঙ্গে নিচে পড়ে গেলেও আশ্চর্যজনকভাবে দু’জনেই গুরুতর আঘাত পাননি, প্রাথমিক চিকিৎসার পরই তাদের শঙ্কামুক্ত ঘোষণা করা হয়।
https://www.instagram.com/p/DdzAWQPib9U/?img_index=1
তবে দুর্ঘটনার পেছনে কেবল দম্পতির শারীরিক ওজনকে দায়ী করতে নারাজ স্থানীয় বাসিন্দারা। প্রতিবেশীদের অভিযোগ, ২৫০ বছরের পুরোনো এই ভবনটির রক্ষণাবেক্ষণে দীর্ঘদিন ধরেই চরম গাফিলতি চলছিল। ভবনের দেওয়াল ও মেঝেতে দীর্ঘদিন ধরে গভীর ফাটল দেখা দিলেও বাড়িওয়ালা তাতে কোনো কান দেননি। বারবার সতর্ক করার পরেও সংস্কারের কোনো স্থায়ী উদ্যোগ নেওয়া হয়নি বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী।
প্রশাসন ও পুলিশ ইতিমধ্যে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। ভবনের কাঠামোগত নিরাপত্তা নিশ্চিত না করে ভাড়া দেওয়া এবং দীর্ঘদিন রক্ষণাবেক্ষণ না করার দায়ে সংশ্লিষ্ট বাড়িওয়ালার বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
