রাজ্যে দীর্ঘ ১৫ বছর পর পালাবদল ঘটেছে। ভরাডুবি হয়েছে তৃণমূলের। এখন একদিকে কালীঘাট তৃণমূল অন্যদিকে ঋতব্রতীপন্থী তৃণমূল, যাদেরকে মূলত তৃণমূলের বিদ্রোহী শিবির' বলা হচ্ছে। তবে এই ঋত তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা দাবি করছেন তাঁরাই আসল তৃণমূল। এইসবের মধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়া দেখা গেল অন্য ছবি। একই খাবার টেবিলে বসে আছেন তৃণমূল কংগ্রেসের দুই সাংসদ শত্রুঘ্ন সিনহা ও সৌগত রায়। আর তাঁদের পাশেই বসে আছেন বিজেপির সাংসদ তথা কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জেপি নাড্ডা। তাহলে কি আরও ফাঁকা হতে চলেছে কালীঘাট তৃণমূল ?
গতকাল অর্থাৎ বুধবার সংসদ ভবনের অ্যানেক্স বিল্ডিংয়ে টিবি সংক্রান্ত একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। সেই অনুষ্ঠানে পশ্চিমবঙ্গের একাধিক সাংসদ উপস্থিত ছিলেন। সেখানেই বিজেপির প্রাক্তন সভাপতি জেপি নাড্ডার সঙ্গে একই জায়গায় দেখা যায় তৃণমূল সাংসদ শত্রুঘ্ন সিনহা এবং প্রবীণ সাংসদ সৌগত রায়কে। এই ছবি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তে নতুন করে রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়েছে। সূত্রের খবর, নাড্ডার সঙ্গে বেশ কিছুক্ষণ কথা হয় শত্রুঘ্ন সিনহার। একই সঙ্গে কথা বলছিলেন সৌগত রায়। তবে কী বিষয়ে কথা হয়েছে তাঁদের, তা এখনও জানা যায়নি।
সম্প্রতি, তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেন সুখেন্দুশেখর রায়, সুস্মিতা দেব এবং প্রকাশ চিক বরাইক। সল্টলেকে বিজেপির দফতরে দলের রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের উপস্থিতিতে দলীয় পতাকা হাতে তুলে নেন রাজ্যসভার প্রাক্তন তিন সাংসদ। শুধু তাই নয়, তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগদান করেই রাজ্যসভার টিকিট পেয়েছেন ওই তিন প্রাক্তন সাংসদ।
অন্যদিকে, তৃণমূল ছেড়ে ১৯ জন সাংসদ নতুন রাজনৈতিক দল এনসিপিআই-তে যোগ দিয়েছেন। এরপর তাঁরা লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার সঙ্গে দেখা করে নিজেদের পৃথক সংসদীয় দলের স্বীকৃতির আবেদন জানান। পাশাপাশি তাঁরা এনডিএ-র শরিক হিসেবে লোকসভায় আসন বরাদ্দেরও আবেদন করেন। সাংসদ সংখ্যার নিরিখে এনডিএ-র অন্যতম বড় শরিক হওয়ার সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে ওই দলের।
এমনকি, বাদল অধিবেশনে সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী কিরেণ রিজিজু এনসিপিআই-কে সর্বদল বৈঠকে অংশ নেওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানান। সেই বৈঠকে নতুন দলের প্রতিনিধিরা যোগও দেন। এই পরিস্থিতিতে জেপি নাড্ডার সঙ্গে শত্রুঘ্ন সিনহা ও সৌগত রায়ের সাক্ষাৎকে ঘিরে উঠছে একাধিক প্রশ্ন।