নয়াদিল্লি: প্রযুক্তি, তথ্য ও জ্ঞানের ক্ষমতা কি কেবল কয়েকজনের হাতেই সীমাবদ্ধ থাকবে, নাকি তার সুফল পৌঁছবে কোটি কোটি মানুষের কাছে? দিল্লিতে ব্লুমবার্গ নিউ ইকোনমি ফোরামে বক্তব্য রাখতে গিয়ে এই প্রশ্নই তুলে ধরলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তাঁর বার্তা, ক্ষমতার আসল অর্থ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা নয়, বরং সেই ক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে সাধারণ মানুষের জীবনে নতুন সুযোগ তৈরি করা। আর এই ভাবনাকেই তিনি নাম দিয়েছেন ‘Power to Empower’, অর্থাৎ ক্ষমতার মাধ্যমে মানুষকে ক্ষমতায়িত করা।
মঙ্গলবারের এই সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান বিশ্বে প্রযুক্তি, তথ্য, জ্ঞান এবং উদ্ভাবন নতুন ধরনের ক্ষমতার উৎস হয়ে উঠেছে। কিন্তু সেই ক্ষমতা কীভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে, সেটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। প্রযুক্তির সুবিধা কি শুধু কিছু মানুষের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে, নাকি সমাজের বৃহত্তর অংশের জন্য নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলে দেবে—সেই সিদ্ধান্তই ভবিষ্যতের দিশা নির্ধারণ করবে।
https://x.com/ANI/status/2109871225300570408?s=20
মোদীর বক্তব্যে উঠে আসে চিন্তাভাবনার পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তাও। তাঁর মতে, নিয়ন্ত্রণের পরিবর্তে সক্ষমতা তৈরি করা, প্রতিযোগিতার পাশাপাশি সহযোগিতাকে গুরুত্ব দেওয়া এবং শুধু নিজের সাফল্য নয়, অন্যদের সফল হতে সাহায্য করাও সমান জরুরি। তাঁর কথায়, ক্ষমতার প্রকৃত মূল্য নির্ভর করে সেই ক্ষমতা কোন উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হচ্ছে তার উপর।
ভারতের ঐতিহ্যের প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জ্ঞান, অর্থ এবং ক্ষমতাকে বৃহত্তর মানুষের কল্যাণে কাজে লাগানোর ভাবনা এ দেশের কাছে নতুন নয়। হাজার বছরের ঐতিহ্যেও এই দর্শনের গুরুত্ব রয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। বর্তমান সময়ে সেই ভাবনাকে প্রযুক্তি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন।
ডিজিটাল ব্যবস্থার ক্ষেত্রেও ভারতের অভিজ্ঞতার কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, ভারত বিভিন্ন দেশের সঙ্গে ডিজিটাল পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচার বা DPI-র অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিচ্ছে, যাতে তারা নিজেদের প্রয়োজন অনুযায়ী ডিজিটাল ব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারে।
কোভিড-১৯ মহামারির সময় তৈরি CoWIN প্ল্যাটফর্মের উদাহরণ দিয়ে মোদী জানান, সেটিকে ওপেন-সোর্স ব্যবস্থা হিসেবে তৈরি করা হয়েছিল। ভারতের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা যাতে অন্যান্য দেশেরও কাজে লাগে এবং বৃহত্তর মানবসমাজ উপকৃত হয়, সেই লক্ষ্যেই ধারাবাহিকভাবে কাজ করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
উদ্ভাবনের গুরুত্ব ব্যাখ্যা করতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটি ভাবনাকে বাস্তব পণ্যে পরিণত করা কিংবা কোনও সমস্যার সমাধান খুঁজে বের করা বড় ক্ষমতা। তবে সেই সুযোগ যখন সমাজের আরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছয়, তখন তার প্রভাব বহুগুণ বেড়ে যায়।
প্রযুক্তিনির্ভর ভবিষ্যতে উন্নয়নের সুফল সবার কাছে পৌঁছে দেওয়ার এই বার্তা আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক মঞ্চে ভারতের ভাবনাকে তুলে ধরল। এখন দেখার, ‘Power to Empower’-এর এই দর্শন আগামী দিনে নীতি ও বাস্তব উন্নয়নে কতটা প্রতিফলিত হয়।
