নয়াদিল্লি: নাচ থামবে না। গান থামবে না। থামবে না পা। একটানা সাত দিন—অর্থাৎ ১৬৮ ঘণ্টা নেচে বিশ্বরেকর্ড গড়ার লক্ষ্যে নেমেছেন নাইজেরিয়ার নৃত্যশিল্পী বেঞ্জামিন ড্যানিয়েল গ্যাব্রিয়েল। পরিচিতি ‘বেনড্যান্সার’ নামে। লক্ষ্য, ব্যক্তিগত ভাবে সবচেয়ে দীর্ঘ সময় নাচের গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড নিজের নামে করা। আর সেই লক্ষ্যের পথে তাঁকে টপকাতে হবে এক ভারতীয় কিশোরীর অসাধারণ কীর্তি।
২০২৩ সালে মাত্র ১৬ বছর বয়সে ১২৭ ঘণ্টা নেচে গিনেসের রেকর্ড গড়েছিলেন মহারাষ্ট্রের লাতুরের শ্রুষ্টি সুধীর জগতাপ। মূলত কথক নেচেই সেই নজির তৈরি করেছিলেন তিনি। গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের সরকারি নথিতেও ১২৭ ঘণ্টার সেই পারফরম্যান্সের উল্লেখ রয়েছে।
https://x.com/trendingblog247/status/2104837676977229889?s=20
এ বার সেই রেকর্ডের চেয়েও ৪১ ঘণ্টা বেশি নাচার লক্ষ্য বেনড্যান্সারের। ২১ সেপ্টেম্বর লাগোসের ফ্রিডম পার্কে শুরু হয়েছিল তাঁর এই নজিরবিহীন নৃত্য-সহনশীলতার পরীক্ষা। লক্ষ্য ছিল ১৬৮ ঘণ্টা পূর্ণ করা। সাত দিন ধরে শুধু নিজের শরীরের সঙ্গে লড়াই নয়, একই সঙ্গে নাইজেরিয়ার নানা প্রান্তের নৃত্য ও সংস্কৃতিকে বিশ্বের সামনে তুলে ধরাও তাঁর উদ্দেশ্য।
৩৩ বছরের গ্যাব্রিয়েল গত ১৮ বছর ধরে পেশাদার ভাবে নাচ করছেন। তাঁর কাছে এই অভিযান শুধু একটি রেকর্ডের লড়াই নয়। আফ্রিকার নৃত্যসংস্কৃতিকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে আরও বড় করে তুলে ধরার সুযোগও। তাই একের পর এক পোশাক বদলে কখনও নাইজেরিয়ার ঐতিহ্যবাহী সাজে, কখনও ভিন্ন নৃত্যভঙ্গিতে সামনে এসেছেন তিনি।
এই সাত দিনের নাচ দেখতে ফ্রিডম পার্কে ভিড় করেছেন বহু মানুষ। কেউ মোবাইলে তাঁর প্রতিটি মুহূর্ত ধরে রাখছেন, কেউ পাশে দাঁড়িয়ে নাচছেন, কেউ আবার শুধুই উৎসাহ দিচ্ছেন। দীর্ঘ সময় ধরে একই ভাবে নাচ চালিয়ে যাওয়ার এই কঠিন পরীক্ষায় দর্শকদের উপস্থিতিই তাঁর অন্যতম ভরসা হয়ে উঠেছে।
তবে এমন চ্যালেঞ্জের প্রস্তুতিও কম কঠিন নয়। বেনড্যান্সারের দল জানিয়েছে, রেকর্ডের আগে দীর্ঘ সময় ধরে শারীরিক প্রশিক্ষণ নিয়েছেন তিনি। বদলেছেন খাদ্যাভ্যাসও। শরীরকে দীর্ঘ সময় ধরে সক্রিয় রাখার জন্য কার্বোহাইড্রেট-নির্ভর খাবার এবং কার্ডিওভাসকুলার প্রশিক্ষণে জোর দেওয়া হয়েছিল।
তাঁর দলের দাবি, লক্ষ্য শুধু ১২৭ ঘণ্টার রেকর্ড ভাঙা নয়। সাত দিনের এই নাচে নাইজেরিয়ার সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যকে তুলে ধরাই অন্যতম উদ্দেশ্য। ২৫০-রও বেশি জাতিগোষ্ঠীর দেশ নাইজেরিয়ার নৃত্যরীতির বৈচিত্র্য সেই মঞ্চে তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন গ্যাব্রিয়েল।
তবে রেকর্ডের স্বীকৃতির ক্ষেত্রে এখনও গুরুত্বপূর্ণ একটি ধাপ বাকি। তাঁর এই প্রচেষ্টা গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস আনুষ্ঠানিক ভাবে স্বীকৃতি দিয়েছে কি না, তা নিশ্চিত নয়। ফলে ১৬৮ ঘণ্টার নাচ শেষ করলেই সঙ্গে সঙ্গে নতুন বিশ্বরেকর্ডের তকমা মিলবে—এমনটা বলা যাচ্ছে না। গিনেসের নির্দিষ্ট নিয়ম ও প্রমাণ যাচাইয়ের পরেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে।
এক ভারতীয় কিশোরীর ১২৭ ঘণ্টার রেকর্ডকে সামনে রেখে নাইজেরিয়ার এক নৃত্যশিল্পীর ১৬৮ ঘণ্টার দৌড়—রেকর্ডের খাতায় শেষ পর্যন্ত কার নাম লেখা থাকবে, তার উত্তর মিলবে গিনেসের সিদ্ধান্তেই। আপাতত লাগোসের ফ্রিডম পার্কে চলছে শুধু একটাই লড়াই—নাচ থামবে কি না।
