মুলতান: পাকিস্তানে ফের রেল দুর্ঘটনা। করাচি থেকে পেশোয়ারগামী রহমান বাবা এক্সপ্রেসের একাধিক কামরা লাইনচ্যুত হয়ে মৃত্যু হল অন্তত পাঁচ জনের। আহত হয়েছেন কমপক্ষে ৩০ জন যাত্রী। মঙ্গলবার ভোরে পাকিস্তানের মুলতানে শের শাহ সেতুর কাছে দুর্ঘটনাটি ঘটে। কী কারণে ট্রেনটি লাইনচ্যুত হল, তা এখনও স্পষ্ট নয়। ইতিমধ্যেই ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করেছে পুলিশ ও উদ্ধারকারী দল।
স্থানীয় পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার ভোর ৫টা ১৫ মিনিট নাগাদ দুর্ঘটনাটি ঘটে। ভারতীয় সময় অনুযায়ী, তখন ঘড়িতে বাজে ভোর ৫টা ৪৫ মিনিট। করাচি থেকে পেশোয়ারের দিকে যাওয়ার সময় আচমকাই ট্রেনটির একাধিক কামরা লাইন থেকে ছিটকে যায়। দুর্ঘটনার খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছন উদ্ধারকারীরা। আহত যাত্রীদের উদ্ধার করে মুলতানের নিশতার হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে কি না, তা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে।
https://x.com/RT_India_news/status/2109932721506316384?s=20
দুর্ঘটনার আগে কামরায় মেরামতির কাজ?
পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম ‘জিও নিউজ়’-কে এক যাত্রী জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার আগে ট্রেনটির ৯ নম্বর কামরায় রেলকর্মীরা নাট-বল্টু মেরামতির কাজ করছিলেন। সেই কাজের সঙ্গে দুর্ঘটনার কোনও যোগ রয়েছে কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়। রেল কর্তৃপক্ষের তরফে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ নিয়ে বিস্তারিত তথ্য সামনে আসেনি। তদন্তের পরেই বিষয়টি স্পষ্ট হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
বারবার দুর্ঘটনায় প্রশ্নের মুখে রেল পরিষেবা
পাকিস্তানের রেল পরিষেবার পরিকাঠামো ও যাত্রী নিরাপত্তা নিয়ে অতীতেও একাধিকবার প্রশ্ন উঠেছে। রহমান বাবা এক্সপ্রেসও এর আগে দুর্ঘটনার কবলে পড়েছিল। ২০১৯ ও ২০২২ সালেও এই ট্রেনের দুর্ঘটনার নজির রয়েছে।
২০২৩ সালের অগস্টে পাকিস্তানের সিন্ধ প্রদেশের নবাবশাহ এলাকায় ভয়াবহ দুর্ঘটনার মুখে পড়েছিল হাজ়ারা এক্সপ্রেস। ট্রেনটির একাধিক কামরা লাইনচ্যুত হওয়ায় অন্তত ৩০ জনের মৃত্যু হয়েছিল। আহত হয়েছিলেন শতাধিক যাত্রী। সেই দুর্ঘটনার পর পাকিস্তানের রেল ব্যবস্থায় নিরাপত্তা এবং রক্ষণাবেক্ষণের মান নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছিল।
শোকপ্রকাশ পাক প্রধানমন্ত্রীর
মুলতানের দুর্ঘটনায় শোকপ্রকাশ করেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। আহতদের চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা করার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। তবে মঙ্গলবারের দুর্ঘটনার কারণ নিয়ে এখনও পর্যন্ত সরকারি ভাবে বিস্তারিত বিবৃতি প্রকাশ করা হয়নি।
দুর্ঘটনার তদন্তে রেললাইনের অবস্থা, ট্রেনের যান্ত্রিক ত্রুটি এবং রক্ষণাবেক্ষণের বিষয়গুলি খতিয়ে দেখা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। আপাতত উদ্ধারকাজ, আহতদের চিকিৎসা এবং দুর্ঘটনার কারণ নির্ধারণের দিকেই নজর রয়েছে প্রশাসনের।
