কলকাতা, নিউজ ডেস্ক: একটার পর একটা কম্পন, আর তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়ে চলেছে উদ্বেগ। কয়েকদিন আগের ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের স্মৃতি এখনও বেশ টাটকা। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলিতে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে। এরই মধ্যে নতুন করে মাটি কেঁপে ওঠায় ফের ভয়াবহ বিপদের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে, আগের বিপর্যয়ের পর কি আরও বড় কোনও চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড়িয়ে দেশটি? পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছেন প্রশাসনিক আধিকারিকেরা।
মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ভোরে পানামায় ৬.১ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। ভারতের ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজি জানিয়েছে, ভারতীয় সময় ভোর ৪ টা ৫০ মিনিট ৩৭ সেকেন্ডে কম্পন টি রেকর্ড করা হয়। জানা গিয়েছে, ভূমিকম্পটির কেন্দ্রস্থল ছিল উত্তর অক্ষাংশের ৭.৬৮৩° এবং পশ্চিম দ্রাঘিমাংশের ৮১.৪০৫ ডিগ্রিতে। ভূপৃষ্ঠ থেকে মাত্র ১০ কিলোমিটার গভীরে কম্পনটির উৎপত্তি হয়েছে। তবে, মঙ্গলবারের এই ভূমিকম্পের নতুন করে কতটা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনও জানা যায়নি।
উল্লেখ্য, গত ৯ অক্টোবর পানামায় ৭.৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত এনেছিল। তাতে একাধিক বাড়ি, রাস্তা এবং সরকারি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বিপর্যয় মোকাবিলা ও ত্রানের কাজ দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যেতে শনিবার জরুরি অবস্থা ঘোষণা করে সরকার। জরুরী কার্যক্রম কেন্দ্রের পরিচালক রেনে গার্সিয়া জানিয়েছেন, আগের ভূমিকম্পের পর ১৪৭ টি আফটারশক রেকর্ড করা হয়েছিল। এর মধ্যে কয়েকটি মাত্রা ছিল ৬.১ এবং ৬.৬।
ভূমিকম্পের জেরে পরিবহন ব্যবস্থাতেও ব্যাপক প্রভাব পড়ে। সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে পানামার দুটি মেট্রো লাইনে পরিষেবা বন্ধ রাখা হয়। দেশের প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরটিও সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছিল। পরে অবশ্য বিমানবন্দরটি পুনরায় চালু হয়। দক্ষিণ উপকূলের কোক্লে প্রদেশে সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়। পানামা সিটিও বেশ কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। এমনকি, পেনোনমের একটি ক্ষতিগ্রস্ত হাসপাতালে রোগীদের সরিয়ে নিয়ে গিয়ে খোলা আকাশের নিচে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছিল বলে বিভিন্ন সূত্রে খবর। এই পরিস্থিতিতে বাসিন্দাদের শান্ত থাকার আবেদন জানিয়েছিল পানামার প্রেসিডেন্ট হোসে রাউল মুলিনো। ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়াতে একাধিক জায়গায় ত্রাণ সংগ্রহ কেন্দ্রও চালু করেছে প্রশাসন।
অন্যদিকে, ভূমিকম্পের পর পানামা সরকার ও জনগণের প্রতি সংহতি জানিয়েছেন ভারতের বিদেশ মন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করার পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার গুলির প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করেন তিনি। পরপর ভূমিকম্পনের জেরে পানামায় পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ অব্যাহত রয়েছে। উদ্ধার ও ত্রাণের কাজে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত পরিকাঠামোর পরিস্থিতিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে, মঙ্গলবার এর ভূমিকম্পে নতুন করে কতটা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। আপাতত, নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জরুরী পরিষেবা স্বাভাবিক রাখা পানামা প্রশাসনের কাছে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।