এ যেন যেই রক্ষক সেই ভক্ষক। যে নিরাপত্তারক্ষীর উপর পেয়িং গেস্ট-এর নিরাপত্তার দায়িত্ব তার হাতে নিরাপত্তা খোয়ালেন এক যুবতী। রাতের অন্ধকারে ছাদে হাঁটতে যাওয়াই হল কাল। তার সুযোগ নিয়ে এক ইন্টেরিয়র ডিজাইনিং ছাত্রীদের ওপরে অমানবিক নির্যাতন চালিয়েছেন নিরাপত্তারক্ষী। অভিযোগ পিছন থেকে এসে গলায় তার পেচিয়ে ওই ছাত্রীরকে ধর্ষণ করে নিরাপত্তারক্ষী। গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন নির্যাতিতা ছাত্রী। ঘটনাটি ঘটেছে গুজরাটের আমেদাবাদদের আনন্দনগর এলাকায়।
জানা গিয়েছে, ওই যুবতী একটি বাড়িতে পেয়িং গেস্ট হিসাবে বসবাস করছিলেন। পড়াশোনার জন্য তিনি সেখানে থাকতেন। ইন্ডিয়া ডিজাইনিং নিয়ে পড়াশোনা করছিলেন তিনি।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার রাতে প্রতিদিনের মতো তিনি ছাদে হাঁটাহাঁটি করছিলেন। ঠিক সেই সময় ছাদে উপস্থিত হয় ওই নিরাপত্তারক্ষী। এরপর থেকেই ওই যুবতিকে উত্তপ্ত করে ওই অভিযুক্ত। পরিস্থিতি অন্যরকম বুঝতে পেরে যুবতী সেই জায়গা থেকে চলে যাওয়ার চেষ্টা করতেই তার গলাতে তার দিয়ে পেঁচিয়ে ধরা হয়। এরপর ওই অবস্থাতেই ওই যুবতীকে ধর্ষণ করে ওই নিরাপত্তারক্ষী বলে অভিযোগ। তারপরেই তাকে সেখানে ফেলে রেখে পালিয়ে যায় সে। এরপর এই ঘটনার খবর চাউর হতেই। তড়িঘড়ি ওই যুবতীকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। বর্তমানে সেখানেই চলছে তার চিকিৎসা।
এই ঘটনার অভিযোগ ইতিমধ্যেই দায়ের করা হয়েছে। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে আমেদাবাদ পুলিশ ও ক্রাইম ব্রাঞ্চ। ধৃত নিরাপত্তারক্ষী উত্তরপ্রদেশের বাসিন্দা। কর্মসূত্রে আহমেদাবাদে থাকত সে। রবিবার সকালে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। মাত্র কয়েকদিন আগেই ওই পেয়িং গেস্ট বাড়িতে নিরাপত্তারক্ষীর কাজে যোগ দিয়েছিল অভিযুক্ত বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।
ইতিমধ্যেই তদন্তকারীদের হাতে এসেছে ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ। সেই ফুটেজ খতিয়ে দেখে এই ঘটনার সমস্ত তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে পুলিশ। অভিযুক্তকে জিজ্ঞাসাবাদ করে এই ঘটনা নেপথ্যে আর কি কারণ রয়েছে তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
হাসপাতালে ক্রমাগতই লড়াই করে চলেছেন ওই নির্যাতিতা। এই ঘটনার পর মানসিক ও শারীরিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন তিনি। জনবহুল এই এলাকায় এমন এক ঘটনায় নিরাপত্তা নিয়ে করছে একাধিক প্রশ্ন। এলাকার মধ্যে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।