নিউজ ডেস্ক: আজ প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের জন্মদিন। দেখতে দেখতে জীবনের ৬৪টি বসন্ত পার করে ফেললেন টলিউডের 'ইন্ডাস্ট্রি'। কিন্তু বয়স যেন কেবলই একটি সংখ্যা তাঁর কাছে! ষাটের কোঠা পার করলেও গ্ল্যামার আর ফিটনেসে আজও তরুণ অভিনেতাদের টেক্কা দিতে প্রস্তুত তিনি। শনিবার সকাল থেকেই সহকর্মী, অনুরাগী ও গোটা টলিপাড়ার শুভেচ্ছাবার্তায় ভাসছেন 'বুম্বা দা'। কিন্তু এই যে ইন্ডাস্ট্রিকে আগলে রাখা, সবার দায়িত্ব নেওয়া— এই স্বভাব কিন্তু তাঁর আজকের নয়, রক্তে ও রন্ধ্রে জড়িয়ে রয়েছে সেই ছোটবেলা থেকেই! শিশুশিল্পী হিসেবে চলচ্চিত্রে পা রাখার পরই ধীরে ধীরে বাংলা সিনেমার অন্যতম পরিচিত মুখ হয়ে ওঠেন তিনি। চার দশকেরও বেশি আগে ১৯৮৩ সালে ‘দুটি পাতা’ ছবিতে নায়ক হিসেবে আত্মপ্রকাশের পর শুরু হয় তাঁর দীর্ঘ পথচলা। চল্লিশ বছরেরও বেশি সময় ধরে বাংলা ছবির সঙ্গে যুক্ত থেকে নিজের জায়গা চিলস্থায়ী করেছেন ‘বুম্বাদা’ একাধিক প্রজন্মের দর্শকের হৃদয়ে। টলিউড তাঁকে নাম দিয়েছে, 'ইন্ডাস্ট্রি’।
প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের অভিনয়জীবনে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় জুড়ে রয়েছে বাংলা বাণিজ্যিক সিনেমা। আশি ও নব্বইয়ের দশকে একের পর এক জনপ্রিয় ছবিতে অভিনয় করে তিনি টলিউডের অন্যতম ব্যস্ত ও জনপ্রিয় নায়ক হয়ে ওঠেন। ‘অমর সঙ্গী’, ‘অমর প্রেম’, ‘প্রতিবাদ’, ‘শ্বশুরবাড়ি জিন্দাবাদ’-সহ একাধিক ছবিতে তাঁর অভিনয় দর্শকের মধ্যে বিপুল জনপ্রিয়তা পেয়েছে। সেই সময় বাংলা সিনেমার বক্স অফিসে তাঁর উপস্থিতি ছিল সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
তবে সময়ের সঙ্গে নিজের অভিনয়ের ধরনেও পরিবর্তন এনেছেন প্রসেনজিৎ। বাণিজ্যিক ছবির গণ্ডি পেরিয়ে তিনি কাজ করেছেন অন্যধারার এবং বিষয়নির্ভর সিনেমাতেও। ঋতুপর্ণ ঘোষের ‘চোখের বালি’ ও ‘দোসর’, গৌতম ঘোষের ‘মনের মানুষ’, সৃজিত মুখোপাধ্যায়ের ‘অটোগ্রাফ’, ‘বাইশে শ্রাবণ’, ‘জাতিস্মর’, ‘গুমনামী’, অতনু ঘোষের ‘ময়ূরাক্ষী’-সহ একাধিক ছবিতে তাঁর অভিনয়ের অন্য আরেকটি শৈল্পিক দিক সামনে এসেছে।
এই জন্মদিনেই প্রসেনজিৎকে নিয়ে বিশেষ স্মৃতি ভাগ করে নিলেন অভিনেত্রী রাইমা সেন। নিজের X হ্যান্ডেলে রাইমা একটি পুরনো ছবি পোস্ট করে লেখেন, “#happybday @prosenjitbumba”। ছবিতে দেখা যাচ্ছে, প্রসেনজিৎ ও রাইমা পাশাপাশি দাঁড়িয়ে হাসিমুখে ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে রয়েছেন। রাইমার সংক্ষিপ্ত জন্মদিনের শুভেচ্ছার সঙ্গে জুড়ে থাকা পুরনো ছবিটি ইতিমধ্যেই নস্টালজিয়ার আবহ তৈরি করেছে। পোস্টের নিচে অনুরাগীদেরও জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানাতে দেখা গেছে।
https://x.com/raimasen/status/2105160101040628115
প্রসেনজিতের টলিউডে অবদান শুধু অভিনেতা হিসেবে তাঁর দীর্ঘ কর্মজীবনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। মূলধারার জনপ্রিয় ছবির পাশাপাশি বিভিন্ন সময়ে বিষয়নির্ভর সিনেমায় কাজ করে তিনি বাংলা চলচ্চিত্রের পরিবর্তনশীল ধারার সঙ্গেও নিজেকে যুক্ত রেখেছেন। ‘দোসর’-এর অভিনয়ের জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে বিশেষ উল্লেখ পাওয়ার পাশাপাশি তাঁর অভিনয় বিভিন্ন সময়ে দর্শক ও সমালোচকদের প্রশংসা পেয়েছে।বাংলা চলচ্চিত্রে তাঁর দীর্ঘ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ২০২৬ সালে প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় পদ্মশ্রী সম্মানে ভূষিত হয়েছেন। কেন্দ্রীয় সরকারের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, চার দশকের বেশি সময়ের কর্মজীবনে তিনি ৪০০-রও বেশি ছবিতে কাজ করেছেন।
প্রসঙ্গত, ৬৪তম জন্মদিনের এই বিশেষ আবহেই অনুরাগীদের নতুন উপহার দিয়েছেন প্রসেনজিৎ। হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্তের গল্প অবলম্বনে ও সায়ন্তন ঘোষালের পরিচালনায় আসছে নতুন সিনেমা ‘জাদুকর সত্যচরণ’। যেখানে নামভূমিকায় একজন জাদুকরের চরিত্রে দেখা যাবে প্রসেনজিৎকে। চিত্রনাট্য লিখছেন সব্যসাচী চৌধুরী। বাংলা চলচ্চিত্রের কয়েক দশকের পরিবর্তন ও বিবর্তনের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা একটি দীর্ঘ অভিনয়-যাত্রার নাম প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়।বাণিজ্যিক সিনেমার জনপ্রিয় নায়ক থেকে বিষয়নির্ভর ছবির অভিনেতা—বিভিন্ন পর্যায়ে নিজেকে বদলে টলিউডের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক আজও অব্যাহত একইভাবে।
