রেশন কার্ডধারীদের জন্য সুখবর। গণবন্টন ব্যবস্থা (PDS)-কে সম্পূর্ণ আধুনিক ও স্বচ্ছ করতে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিতে চলেছে সরকার। খুব শীঘ্রই রাজধানীতে চালু হতে যাচ্ছে ‘স্মার্ট-পিডিএস’ (Smart-PDS) ব্যবস্থা। এর ফলে রেশন সংক্রান্ত সমস্ত নাগরিক পরিষেবা যেমন হাতের মুঠোয় চলে আসবে, তেমনই বন্ধ হবে রেশন বন্টনের কালোবাজারি।নতুন এই ব্যবস্থার অধীনে প্রচলিত রেশন কার্ডগুলিকে কিউআর (QR) কোড-যুক্ত স্মার্ট কার্ডে রূপান্তরিত করা হবে।
রেশন দোকানে সুবিধাভোগীদের সঠিক পরিচয় নিশ্চিত করতে বায়োমেট্রিকের পাশাপাশি যুক্ত হচ্ছে উন্নত ফেসিয়াল রিকগনিশন বা ফেস স্ক্যান প্রযুক্তি। অনেক সময় বয়সের কারণে বা কঠোর শারীরিক পরিশ্রমের ফলে প্রবীণ নাগরিক ও শ্রমিকদের আঙুলের ছাপ মিলতে সমস্যা হয়। নতুন ব্যবস্থায় আঙুলের ছাপ না মিললেও ফেস অথেনটিকেশনের মাধ্যমে সহজেই রেশন তোলা যাবে, যা তাঁদের বড়সড় স্বস্তি দেবে।
স্মার্ট-পিডিএস ব্যবস্থার সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, এর জন্য উপভোক্তাদের আর কোনো সরকারি দপ্তরে সশরীরে হাজির হতে হবে না। রেশন কার্ডে নতুন সদস্যের নাম নথিভুক্ত করা, নাম বাদ দেওয়া, প্রয়োজনীয় নথিপত্র আপলোড করা এবং আবেদনের বর্তমান স্থিতি (Status) জানার মতো সমস্ত কাজই ঘরে বসে অনলাইনে করা যাবে।
খাদ্যশস্যের যোগান থেকে শুরু করে উপভোক্তাদের হাতে তা পৌঁছানো পর্যন্ত—সমগ্র প্রক্রিয়ার ওপর অনলাইনে নজরদারি চালানো হবে। সরকারের দাবি, এই ডিজিটাল পরিকাঠামো চালুর পর ভুয়ো রেশন কার্ডের ব্যবহার, একই নামের দ্বৈত অন্তর্ভুক্তি এবং রেশন চুরির মতো দুর্নীতি সম্পূর্ণ বন্ধ করা সম্ভব হবে
বর্তমানে এই নতুন ব্যবস্থাটি পরীক্ষামূলক স্তরে রয়েছে। সমগ্র প্রক্রিয়াটি খতিয়ে দেখতে এবং এর কার্যকারিতা পরীক্ষা করতে সরকার ইতিমধ্যেই ১৬ সদস্যের একটি বিশেষ ‘ইউজার অ্যাকসেপ্টেন্স টেস্টিং’ (UAT) কমিটি গঠন করেছে। কমিটির সবুজ সংকেত মিললেই দিল্লির সাধারণ মানুষ এক সম্পূর্ণ ঝামেলাহীন ও ডিজিটাল রেশন পরিষেবার সুবিধা উপভোগ করতে পারবেন।