আলিপুরদুয়ার, নিউজ ডেস্ক : কয়েক বছর ধরে যে আওয়াজের অপেক্ষায় ছিল বক্সার জঙ্গল, এবার যেন সেই অপেক্ষারই অবসান ঘটতে চলেছে। কয়েকদিন ধরেই জঙ্গলের অন্দরে শুরু হয়েছে বিশেষ প্রস্তুতি, নজরদারিও বাড়ানো হয়েছে। হঠাৎ করেই বনকর্মীদের তৎপরতা এবং জঙ্গলের একটি নির্দিষ্ট এলাকা ঘিরে বিশেষ নজরদারি ঘিরে কৌতুহল তৈরি হয়েছিল। অবশেষে শুক্রবার সেই প্রশ্নের উত্তর মিলল। দীর্ঘ অপেক্ষার পর বক্সার জঙ্গলে ফিরল এমন এক অতিথি, যার সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে এই জঙ্গলের হারিয়ে যাওয়া গৌরব।
২ অক্টোবর শুক্রবার বক্সা টাইগার রিজার্ভে অনুষ্ঠিত হল Tiger Reintroduction Programme। বিহারের বাল্মিকী টাইগার রিজার্ভ থেকে প্রায় তিন বছর বয়সী একটি রয়্যাল বেঙ্গল টাইগ্রেসকে এনে বক্সার জঙ্গলে পুনঃপ্রবর্তন করা হয়েছে। বাঘিনীটির শরীরে রেডিও কলার লাগানো হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। এর মাধ্যমে আগামী দিনে তাঁর গতিবিধি, স্বাস্থ্য, আচরণ এবং বিচরণ ক্ষেত্রের ওপর নিয়মিত নজর রাখা হবে। বক্সার জঙ্গলে বাঘের প্রত্যাবর্তন নিছকই একটি বন্যপ্রাণীর পুনঃপ্রবর্তনের ঘটনা নয়। বাঘের সঙ্গে বক্সার সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। এই অরণ্যের প্রকৃতি, ইতিহাস এবং স্থানীয় মানুষের স্মৃতির সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে এই বিশেষ প্রাণী। ফলে, দীর্ঘ সময় পর ফের বক্সার জঙ্গলে বাঘের উপস্থিতি স্বাভাবিকভাবেই উচ্ছাস তৈরি করেছে প্রকৃতিপ্রেমী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মনের মধ্যে।
এদিনের এই কর্মসূচির পাশাপাশি ২৫ মাইল এনক্লোজার রোড এলাকায় স্থানীয় বাসিন্দা ও ডুকপা সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলা হয়। সেই সঙ্গে আদমা, চুনাভাটি, বক্সা-দুয়ার সহ আশেপাশের প্রত্যন্ত এলাকার বাসিন্দারা দীর্ঘদিনের রাস্তা ও যোগাযোগ ব্যবস্থার সমস্যার কথা তুলে ধরেন তাঁদের বক্তব্যে। সূত্রে খবর, বক্সা জঙ্গলে আগামী দিনে আরও বাঘ আনার পরিকল্পনা রয়েছে। আগামী দুই মাসের মধ্যে আরও তিনটি বাঘ আনার সম্ভাবনার কথা জানিয়েছেন বন দফতরের কর্মীরা। তবে, এই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত কোনও নির্দিষ্ট সরকারি সময়সূচি প্রকাশ করা হয়নি।
দীর্ঘমেয়াদে বক্সা টাইগার রিজার্ভে একটি স্থায়ী বাঘের জনসংখ্যা গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। সেই লক্ষ্যেই শুরু করা হলো এই বিশেষ নতুন যাত্রা। একটি বাঘিনীর আগমনের মধ্য দিয়ে বক্সার জঙ্গলে ফিরল বহুদিনের প্রতীক্ষিত অধ্যায়। এখন অপেক্ষা কবে আবার এই অরন্যের গভীরতা কাঁপিয়ে শোনা যাবে রয়্যাল বেঙ্গল টাইগারের গর্জন। প্রকৃতিপ্রেমীদের আশা ধীরে ধীরে বাঘের বিচরণে আবারো মুখর হয়ে উঠবে উত্তরবঙ্গের এই ঐতিহ্যবাহী অরণ্য।