নিউজ ডেস্ক: সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সরদের বিজেপির সাথে যোগ নিয়ে কয়েকদিন ধরেই তোলপাড় নেটপাড়া। অভিযোগ উঠেছে নির্বাচনের প্রাক্কালে বাংলার কন্টেন্ট ক্রিয়েটারদের পিছনে লক্ষ লক্ষ টাকা ঢেলেছে বর্তমান রাজ্য সরকার। সম্প্রতি নির্বাচন কমিশনের কাছে বিজেপির জমা দেওয়া রিপোর্টেই উঠে এসেছে এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য। কোন ইনফ্লুয়েন্সরকে কত টাকা দেওয়া হয়েছে সেই খতিয়ান সকলের সামনে চলে এসছে। সেখানেই আছে আরজে প্রিয়াঙ্কা (RJ Priyanka) ও সায়ক চক্রবর্তীসহ একাধিক নাম। সবার কটাক্ষ, সমালোচনার মাঝে এবার মুখ খুললেন প্রিয়াঙ্কা ও সায়ক।
আরজে প্রিয়াঙ্কার বক্তব্য, ‘আপনাদের বিশ্বাসের সঙ্গে খেলেছি? কীভাবে? আমি প্রথমত, এমন কোনও উস্কানিমূলক ভিডিও বানাইনি, যেখানে বলা হয়েছে বিজেপিকে ভোট দিন। আমার কোন পোস্টে বা ভিডিওতে বিজেপিকে হাইলাইট করে পোস্ট করা হয়েছে? বা তৃণমূলকে বাজে মন্তব্য করা হয়েছে? কিংবা ভোটপ্রচার করা হয়েছে? আমার সেরকম কোনও ভিডিও দেখেছেন?....’ প্রিয়াংকার দাবি, বন্দে ভারত ট্রেনের সূচনা কিংবা কেন্দ্রীয় বাজেট সংক্রান্ত যে সমস্ত বিষয় নিয়ে তিনি ভিডিও তৈরি করেছিলেন, সেগুলিতে কেবল সরকারি উদ্যোগ ও পরিষেবার তথ্য তুলে ধরা হয়েছিল, যেখানে কোনও রাজনৈতিক দলের নাম বা প্ররোচনা ছিল না।
অন্যদিকে জানা গিয়েছে আজ শনিবার, নিজের সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট থেকে একটি পোস্ট করেন সায়ক। যেখানে তিনি লেখেন, “অলি পাব রিঅ্যাকশন আমার ইনস্ট্যান্ট। অলি পাব ভুল স্বীকার করে স্টেটমেন্টও দিয়েছিল। এটার সাথে অন্য কিছুরই কোনও সম্পর্ক নেই। ওটা ঘটনা, রাজনীতি না। আমি সৎপথে রোজগার করি। আফটার অলি পাব আমাকে কয়েকটা দল কন্টেন্ট বানানোর অ্যাপ্রোচ করেছিল, তার আগেও করেছিল। কিন্তু ওই ঘটনায় বিজেপি এবং সমমনভাবাপন্ন মানুষ আমাকে সাপোর্ট করেছিলেন। তাই হ্যাঁ, আমি তাদের হয়ে কিছু কনটেন্ট বানিয়েছি। কী সেটা? SIR নিয়ে কিছু টেকনিক্যাল এক্সপ্ল্যানেশন এবং যুদ্ধের সময় প্রধানমন্ত্রী চুপ থাকার কারণ এবং BJP campaign এর কাজ শেষ হয় নতুন CM কে congratulation জানিয়ে মে মাসে। এদিকে অলি পাবের ঘটনা ঘটেছিল জানুয়ারিতে। আর আমার বিজেপির হয়ে এই সব কনটেন্ট মার্চ-মে, সেটাও কমিশনের ওয়েবসাইটে পাবেন।”
যারা কটাক্ষ করছেন তাদের মূল বক্তব্য ব্যক্তিবিশেষে রাজনৈতিক মতামত থাকা অস্বাভাবিক নয়। কেউ তা প্রকাশ্যে বলেন, কেউ গোপনই রাখেন। তবে ইনফ্লুয়েন্সরদের দায়িত্ব সমাজের আর পাঁচজনের থেকে তুলনামূলক বেশি। কারণ, তাঁদের মতামত অনেকক্ষেত্রে জনমতকে প্রভাবিত করে। আর সেই প্রেক্ষিতেই গেরুয়া শিবিরের খতিয়ান প্রকাশ্যে আসার পর থেকে তালিকায় নাম থাকা কন্টেন্ট ক্রিয়েটারদের সততা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ছত্রিশ জনের তালিকায় বাংলার বেশ কিছু ইনফ্লুয়েন্সারদের নাম আছে। তবে বাকিরা এখনো কোনো প্রতিক্রিয়া দেননি।
