নিউজ ডেস্ক: সুপ্রিম কোর্টের কাছে আইনজীবীদের সঙ্গে পুলিশের দুর্ব্যবহার ও আটকের অভিযোগে এবার সরাসরি সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হল সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশন (SCBA)। সংবিধানের ৩২ নম্বর অনুচ্ছেদে মামলা দায়ের করে ১০ অক্টোবরের ঘটনার জন্য দায়ী পুলিশ আধিকারিকদের বিরুদ্ধে জবাবদিহি চেয়েছে সংগঠনটি। পাশাপাশি, সুপ্রিম কোর্ট-সহ দিল্লির বিভিন্ন আদালতে আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীদের প্রবেশের পথে বিধিনিষেধ পর্যালোচনারও আবেদন জানানো হয়েছে।
SCBA-র অভিযোগ, ওই দিন একাধিক আইনজীবীকে জোর করে পুলিশের গাড়িতে তোলা হয় এবং তাঁদের আটক করার কারণ জানানো হয়নি। আটক হওয়া আইনজীবীদের মধ্যে প্রবীণ আইনজীবী, মহিলা আইনজীবী এবং প্রবীণ নাগরিকরাও ছিলেন বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ঘটনার ভিডিয়ো সংগঠনের হাতে এসেছে বলেও দাবি করা হয়েছে। পরে হস্তক্ষেপের পর আটক আইনজীবীদের ছেড়ে দেওয়া হয় বলে জানিয়েছে SCBA।
এই ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে বিস্তারিত রিপোর্ট চাওয়া হয়েছে বলে খবর। কতক্ষণ আইনজীবীদের আটক রাখা হয়েছিল, আটকের আইনি ভিত্তি কী ছিল, কোন আধিকারিকরা ঘটনায় যুক্ত ছিলেন এবং বলপ্রয়োগ করা হয়েছিল কি না—সেই সমস্ত তথ্য রিপোর্টে জানানোর আবেদন করা হয়েছে। পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের তরফে কী নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, তাও স্পষ্ট করার দাবি উঠেছে।
একই সঙ্গে ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার ১৬৩ নম্বর ধারায় জারি করা নিষেধাজ্ঞার পরিধি ও কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে SCBA। ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ রাখা এবং সুপ্রিম কোর্ট মেট্রো স্টেশন বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। এই পদক্ষেপগুলির আগে ভারতের প্রধান বিচারপতির সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছিল কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। পাশাপাশি, ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত সিসিটিভি ফুটেজ, বডি ক্যামেরার ফুটেজ থাকলে তা, আটক সংক্রান্ত নথি এবং অন্যান্য প্রমাণ সংরক্ষণের আবেদন জানানো হয়েছে।
এর আগে রবিবার বিশেষ শুনানিতে সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিয়েছিল, আন্দোলন করলেও সাধারণ মানুষের স্বাধীনভাবে চলাফেরার অধিকার খর্ব করা চলবে না। পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার জন্য যে ব্যারিকেড একান্ত প্রয়োজনীয় নয়, সেগুলি সরিয়ে ফেলতে হবে। একইসঙ্গে সুপ্রিম কোর্ট চত্বরের আশপাশে ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার ১৬৩ ধারা জারি সংক্রান্ত নোটিসও অবিলম্বে সরানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এবার আইনজীবীদের আটক এবং আদালতে প্রবেশের পথে বিধিনিষেধ নিয়ে SCBA-র আবেদনে সুপ্রিম কোর্ট কী পদক্ষেপ করে, সেদিকেই নজর রয়েছে।
