কলকাতা: দুর্গাপুজোয় উপচে পড়া ভিড় সামলাতে এবার প্রযুক্তির উপরেই বাড়তি ভরসা রাখছে পূর্ব রেল। পুজোর দিনগুলিতে যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে শিয়ালদহ ডিভিশনে জোরদার করা হচ্ছে নজরদারি ব্যবস্থা। ২,৯৮৬টি অত্যাধুনিক ক্যামেরার মাধ্যমে ডিভিশনের ২০০টিরও বেশি স্টেশনে চলবে নজরদারি। শুধু তাই নয়, পরিস্থিতির উপর সার্বক্ষণিক নজর রাখতে শিয়ালদহের ডিআরএম অফিসে তৈরি করা হয়েছে অত্যাধুনিক সেন্ট্রাল ওয়ার রুম। এই ব্যবস্থার উপর নজর রাখছে দিল্লির রেল বোর্ডও।
কীভাবে কাজ করবে সেন্ট্রাল ওয়ার রুম?
দুর্গাপুজোর সময় শিয়ালদহ ডিভিশনের বিভিন্ন স্টেশনে যাত্রীদের ভিড় সামলানো রেল কর্তৃপক্ষের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ। বিশেষ করে শিয়ালদহের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনে যাত্রীদের চাপ সামলাতে আগাম প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। রেল সূত্রে খবর, শিয়ালদহ-সহ মোট ১১টি গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনে রয়েছে পৃথক ওয়ার রুম। এই স্টেশনগুলির ক্যামেরার ফুটেজ ডিআরএম অফিসের সেন্ট্রাল ওয়ার রুম থেকে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
কোন স্টেশনে ভিড় বাড়ছে, কোথায় যাত্রীদের চাপ সামলানো কঠিন হয়ে উঠছে কিংবা কোথাও সন্দেহজনক গতিবিধি দেখা যাচ্ছে কি না, তার উপর নজর রাখবেন সংশ্লিষ্ট আধিকারিকরা। প্রয়োজন অনুযায়ী দ্রুত নিরাপত্তাকর্মীদের সতর্ক করার ব্যবস্থাও থাকছে। পাশাপাশি ট্রেনের গতি ও পরিষেবার উপর নজর রাখতে আপডেট করা হয়েছে সেন্ট্রাল কন্ট্রোল রুম। ইলেকট্রনিক প্যানেল বোর্ডের মাধ্যমে ট্রেন চলাচলের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
এআই ক্যামেরায় শনাক্ত হবে সন্দেহভাজন?
নজরদারি ব্যবস্থায় ব্যবহার করা হচ্ছে চার থেকে পাঁচ ধরনের ক্যামেরা। এর মধ্যে রয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তিসম্পন্ন ফেস রিকগনিশন ক্যামেরা এবং নাইট ভিশন ক্যামেরা। রেল সূত্রে জানা গিয়েছে, ফেস রিকগনিশন প্রযুক্তির সাহায্যে ক্যামেরায় ধরা পড়া মুখের সঙ্গে অপরাধীদের পুরনো ডেটাবেসের তথ্য মিলিয়ে সন্দেহভাজনদের শনাক্ত করতে সাহায্য পাওয়া যাবে। তবে এই প্রযুক্তির মাধ্যমে শনাক্তকরণ ও যাচাইয়ের প্রক্রিয়া কতটা কার্যকর হবে, তা নির্ভর করবে ব্যবহৃত ব্যবস্থার নির্ভুলতা এবং পরবর্তী যাচাইয়ের উপর।
স্টেশনের ভিতরের পাশাপাশি বাইরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলিতেও নজরদারি চালানো হচ্ছে। দিন-রাত পরিস্থিতির উপর নজর রাখছেন রেল সুরক্ষা বাহিনীর (আরপিএফ) জওয়ানরা।
গত বছরের রেকর্ডই বাড়াচ্ছে উদ্বেগ
রেল সূত্রে খবর, গত বছর দুর্গাপুজোর সপ্তমীতে শিয়ালদহ ডিভিশনে যাত্রীসংখ্যা ২১ লক্ষে পৌঁছেছিল, যা সর্বকালীন রেকর্ড বলে জানানো হয়েছে। এবার সেই সংখ্যাও ছাপিয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা রেল কর্তৃপক্ষের। ফলে প্ল্যাটফর্ম, ফুট ওভারব্রিজ এবং স্টেশনের প্রবেশ ও প্রস্থানপথে ভিড় নিয়ন্ত্রণ করা বড় চ্যালেঞ্জ।
দিল্লি থেকেও বিশেষ সতর্কবার্তা
নয়াদিল্লি রেলস্টেশনে অতিরিক্ত ভিড়ের চাপে ঘটে যাওয়া মর্মান্তিক ঘটনার পুনরাবৃত্তি এড়াতে শিয়ালদহে আগাম প্রস্তুতির উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। দিল্লির রেল বোর্ডও গোটা ব্যবস্থার উপর নজর রাখছে। ভিড় বিপজ্জনক পর্যায়ে পৌঁছনোর আগেই পরিস্থিতি বুঝে ব্যবস্থা নেওয়াই এখন রেল কর্তৃপক্ষের প্রধান লক্ষ্য। দুর্গাপুজোয় যাত্রীদের নিরাপত্তা এবং নির্বিঘ্নে ট্রেন পরিষেবা চালু রাখতেই এই বিশেষ উদ্যোগ।
