কলকাতা, নিউজ ডেস্ক: সন্তানের জন্ম একজন নারীর জীবনের চেনা ছন্দ আর অগ্রাধিকারের তালিকাটা রাতারাতি বদলে দেয়। ব্যক্তিগত কেরিয়ার কিংবা খ্যাতির শিখরে থাকার পরেও সন্তানের প্রয়োজনকে সবার উপরে কীভাবে জায়গা দিতে হয়, তা নিজের অভিজ্ঞতা দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছেন অনুষ্কা শর্মা। ক্রিকেটার বিরাট কোহলির সঙ্গে যৌথভাবে সন্তান মানুষ করার এই পথচলা তাঁকে আরও বেশি পরিণত ও আত্মবিশ্বাসী করে তুলেছে।
২০২১ সালের জানুয়ারি মাসে বিরাট ও অনুষ্কার জীবনে আসে তাঁদের প্রথম সন্তান ভামিকা। মেয়ের বেড়ে ওঠার দিনগুলিতে তাকে পর্যাপ্ত সময় দিতে স্বেচ্ছায় অভিনয় জীবনের ব্যস্ততা অনেকটাই কমিয়ে দেন অনুষ্কা। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য ছিল, বিরাট বাবা হিসেবে নিজের দায়িত্ব পালনে সবসময় সচেষ্ট থাকলেও, সেই বিশেষ সময়ে ভামিকার জীবনে মায়ের সান্নিধ্য বেশি প্রয়োজন ছিল। পরিস্থিতির দাবি মেনেই কাজের গতি শ্লথ করার মতো বড় সিদ্ধান্ত নিতে এক মুহূর্তও ভাবেননি তিনি।
২০২৩ সালে বেঙ্গালুরুর একটি অনুষ্ঠানে প্যারেন্টিং নিয়ে নিজের এই স্পষ্ট ভাবনার কথা তুলে ধরেছিলেন অভিনেত্রী। তাঁর মতে, মাতৃত্ব একজন নারীকে অসম্ভব সাহসী করে তোলে। সন্তানকে ঘিরে এমন অনেক জটিল সিদ্ধান্ত নিতে হয়, যেখানে বইয়ের নিয়ম নয়, নিজের বিচারবুদ্ধির উপর ভরসা রাখা ছাড়া উপায় থাকে না। আর সেই আত্মবিশ্বাসই একজন অভিভাবককে সঠিক দিশা দেখায়।
অনুষ্কা মনে করিয়ে দিয়েছেন, সন্তান প্রতিপালনের কোনও বাঁধাধরা ছক বা দায়িত্বের গাণিতিক ‘৫০-৫০’ ভাগাভাগি হয় না। সন্তানের বয়স ও মানসিক পরিস্থিতি অনুযায়ী কখনও বাবার, আবার কখনও মায়ের ভূমিকা বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। তাছাড়া সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে অন্য পরিবারের সঙ্গে নিজের তুলনা করে অভিভাবকত্বের উপর সন্দেহ তৈরি করা একেবারেই অর্থহীন। বাইরের দুনিয়ার শংসাপত্রের তোয়াক্কা না করে নিজের পরিবারের জন্য সঠিক পদক্ষেপ নেওয়াটাই আসল।
সন্তানের ভালোর জন্য কেরিয়ারের বড় সুযোগকে না বলা কিংবা চারপাশের মতামতের পরোয়া না করে সিদ্ধান্ত নেওয়াই একজন সচেতন অভিভাবকের বৈশিষ্ট্য। অনুষ্কার বার্তা খুব স্পষ্ট, তথাকথিত পারফেক্ট বাবা-মা হওয়ার চেষ্টা না করে, ভুল থেকে শিখে নিজের সন্তানকে বোঝা এবং তার প্রতি বিশ্বস্ত থাকাই সুস্থ অভিভাবকত্বের আসল পরিচয়।