কলকাতার 'মুখ' ধর্মতলার চেহারা বদলাতে এবার কড়া বার্তা বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের। ধর্মতলার ফুটপাত দখল, প্লাস্টিক এবং আবর্জনা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে রবিবার থেকেই ধর্মতলা পরিষ্কারের কাজে নামার জন্য দলের কাউন্সিলরদের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। ধর্মতলা কলকাতার অন্যতম পরিচিত এলাকা তাই সেখানে নোংরা আবর্জনা ও ফুটপাত দখলের ছবি কোনওভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।
বিজেপির রাজ্য সভাপতি সমীক ভট্টাচার্যের বক্তব্য 'ধর্মতলা থেকে সরে যান। ওটা কলকাতার বুক। আমাদের দু’জন কাউন্সিলর আছেন, একজন বিধায়ক আছেন। আমি তাদের দায়িত্ব দিচ্ছি, ধর্মতলা আগে পরিষ্কার করুন তারপর তো বোঝা যাবে নতুন সরকার এখানে এসেছে। এর জন্য কোনও নির্দেশের দরকার নেই। এটা পার্টির অবস্থান। এটা পার্টির ঘোষিত অবস্থান।'
তাঁর দাবি, শতাব্দী প্রাচীন বহু দোকানের সামনে ফুটপাত দখল করে রাখায় ব্যবসায়ীরা সমস্যায় পড়েছেন। নিয়মিত কর দেওয়া ব্যবসায়ীদের অধিকার রক্ষার দায়িত্ব কাউন্সিলরদেরই নিতে হবে বলে বার্তা দিয়েছেন তিনি। তাঁর স্পষ্ট নির্দেশ, কলকাতার বুক ও মুখ পরিষ্কার করতে হবে, প্রয়োজন হলে দখলমুক্ত করতে হবে।
তবে, একইসঙ্গে সব হকারদের উচ্ছেদের পক্ষবাদী নন বলেও স্পষ্ট করেছেন শমীক। পরে সাংবাদিকদের সামনে বক্তব্য রাখেন,'একদম হকারদের শেষ করে দেওয়া হোক চাই না সব ক্ষেত্রে। তবে, কিছু-কিছু জায়গায় হকারদের সরাতে হয়। গড়িয়াহাটে একবার হকার সরানো হয়েছে। তাঁদের পুর্নবাসনের ব্যবস্থা করা হয়েছিল বাম জামানায়।'
গড়িয়াহাটের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন অতীতে হকারদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হলেও অনেকে পরে ফের পুরনো জায়গায় বসেছিলেন। ধর্মতলা নিয়ে শমীকের কড়া নির্দেশের পর রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। এবার নজর, বাস্তবে কত দ্রুত বদলায় কলকাতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যস্ত এই এলাকার চেহারা।