দীর্ঘ দু’বছরের নির্বাসন জীবনের ইতি টেনে ডিসেম্বরেই বাংলাদেশে ফিরতে চান ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শুধু দেশে ফেরাই নয়, আদালতে আত্মসমর্পণ করার পরিকল্পনাও রয়েছে তাঁর। একই সঙ্গে আওয়ামী লীগের পলাতক নেতাদেরও দেশে ফিরে বিচারপ্রক্রিয়ার মুখোমুখি হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। সংবাদসংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই বিস্ফোরক ঘোষণা করেছেন বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী।
২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের জেরে গণআন্দোলনের মুখে প্রধানমন্ত্রীর পদ ছেড়ে ভারত আশ্রয় নেন শেখ হাসিনা। এরপর বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে তাঁকে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করে। ঢাকার পক্ষ থেকে একাধিকবার তাঁর প্রত্যর্পণ চেয়ে ভারতের কাছে আবেদনও জানানো হয়েছে। তবে এবার হাসিনা নিজেই জানিয়েছেন, তিনি স্বেচ্ছায় দেশে ফিরতে চান এবং আইনের মুখোমুখি হতে প্রস্তুত।
রয়টার্সকে দেওয়া প্রায় এক ঘণ্টার সাক্ষাৎকারে হাসিনা বলেন, দেশে ফিরলেই তাঁকে গ্রেপ্তার করা হতে পারে, এমনকি প্রাণনাশের আশঙ্কাও রয়েছে। তবুও তিনি ফিরবেন, কারণ তাঁর দলের নেতা-কর্মীরা বর্তমানে চরম দমন-পীড়নের শিকার হচ্ছেন। তিনি জানান, আওয়ামী লীগের বহু পলাতক নেতার সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ হয়েছে এবং তাঁরা একসঙ্গেই দেশে ফিরে আদালতে আত্মসমর্পণ করতে চান। বাংলাদেশের বিচারব্যবস্থার উপর তাঁর আস্থা রয়েছে বলেও দাবি করেছেন তিনি।
মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ার আশঙ্কা প্রসঙ্গে আবেগঘন প্রতিক্রিয়া দেন শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, যদি মৃত্যু অবশ্যম্ভাবী হয়, তবে নিজের জন্মভূমির মাটিতেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করতে চান। তাঁর কথায়, যেখানে তাঁর বাবা-মায়ের কবর রয়েছে, যেখানে তাঁদের রক্ত মিশে আছে, সেই দেশেই শেষ জীবন কাটাতে চান তিনি।
উল্লেখ্য, হাসিনার পাশাপাশি প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কমলকেও একই মামলায় মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তবে তাঁর বা আওয়ামী লীগের অন্য পলাতক নেতাদের কোনও প্রতিক্রিয়া এখনও পাওয়া যায়নি।
একাধিক মেয়াদে দুই দশকেরও বেশি সময় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন শেখ হাসিনা। ২০২৪ সালের রাজনৈতিক অস্থিরতার পর ক্ষমতা হারানোর পর দেশ ছাড়েন তিনি। পরে অন্তর্বর্তী সরকারের আমল পেরিয়ে নির্বাচনে জয়ী হয়ে ক্ষমতায় আসে বিএনপি। বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার পরিচালিত হচ্ছে। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, হাসিনার দেশে ফেরা বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারে।
একই সঙ্গে কূটনৈতিক মহলেও এই ঘোষণাকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ, হাসিনার প্রত্যর্পণ ইস্যুতে গত দুই বছর ধরে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে টানাপোড়েন চলছিল। এ অবস্থায় তাঁর স্বেচ্ছায় দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত দুই দেশের সম্পর্কেও নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। যদিও এ বিষয়ে এখনও বাংলাদেশ বা ভারতের সরকারের তরফে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।




