নিউজ ডেস্ক: দিল্লিতে বিক্ষোভের খবর সংগ্রহ করতে গিয়ে মহিলা সাংবাদিকদের উপর হামলা ও হেনস্থার অভিযোগে এবার কড়া অবস্থান নিল সুপ্রিম কোর্ট। অভিযোগের ব্যাখ্যা দিতে দিল্লি পুলিশের এক উচ্চপদস্থ আধিকারিককে আদালতে হাজির থাকার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত। মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, এই সংক্রান্ত মামলার উল্লেখের পর আদালত জানিয়েছে, আগামী বৃহস্পতিবার বিষয়টি শুনানির জন্য তালিকাভুক্ত করা হবে। সাংবাদিকদের নিরাপত্তা এবং সংবাদ সংগ্রহের স্বাধীনতা নিয়ে এই পদক্ষেপকে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। তবে, অভিযোগের সত্যতা এবং পুলিশের ভূমিকা নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও আসেনি।
সুপ্রিম কোর্টে এই সংক্রান্ত দুটি গুরুত্বপূর্ণ আবেদন জমা পড়েছে। প্রথমটি করেছে Network of Women in Media, India (NWMI)। অন্য আবেদনটি করেছে Free Speech Collective। দুই সংগঠনের বক্তব্য, দিল্লিতে সাম্প্রতিক বিক্ষোভের খবর করতে গিয়ে একাধিক সাংবাদিককে বাধা, হেনস্থা এবং আটক করার অভিযোগ উঠেছে। তাঁদের মধ্যে মহিলা সাংবাদিকদের শারীরিকভাবে হেনস্থা করার অভিযোগও রয়েছে। আবেদনকারীদের দাবি, সংবাদমাধ্যমের পরিচয়পত্র দেখানোর পরেও কয়েকজন সাংবাদিককে তাঁদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়া হয়েছে।
সিনিয়র আইনজীবী ইন্দিরা জয়সিং NWMI-এর আবেদনের বিষয়টি প্রধান বিচারপতির নজরে আনেন। এরপরই প্রধান বিচারপতি জানান, অভিযোগের ব্যাখ্যা দেওয়ার জন্য একজন উচ্চপদস্থ পুলিশ আধিকারিকের আদালতে উপস্থিত থাকা প্রয়োজন। অন্যদিকে, Free Speech Collective-এর তরফে সিনিয়র আইনজীবী গোপাল শঙ্করনারায়ণ একটি আদালত অবমাননার আবেদন উল্লেখ করেন। আইনজীবী চন্দর উদয় সিংও একই ধরনের অভিযোগ আদালতের সামনে তুলে ধরেন। তাঁদের অভিযোগ, সাংবাদিকদের কাজে বাধা না দেওয়ার বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও পুলিশি পদক্ষেপ অব্যাহত ছিল।
উল্লেখ্য, ১১ অক্টোবর সুপ্রিম কোর্টের একটি বেঞ্চ নির্দেশ দিয়েছিল, আইনজীবী, সাংবাদিক এবং অন্যান্য পেশাজীবীদের তাঁদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে কোনওভাবেই বাধা দেওয়া যাবে না। সেই নির্দেশের পরেও সাংবাদিকদের আটক ও হেনস্থার অভিযোগ সামনে আসায় আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে Free Speech Collective। সংগঠনটি ঘটনার স্বাধীন ও সময়সীমাবদ্ধ তদন্ত, অভিযুক্ত পুলিশকর্মীদের শনাক্তকরণ এবং প্রাসঙ্গিক নথি ও সিসিটিভি ফুটেজ সংরক্ষণের দাবি জানিয়েছে।
অন্যদিকে, NWMI মহিলা সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশের সঙ্গে সংবাদমাধ্যমের যোগাযোগের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট নিয়ম ও কার্যকর সুরক্ষাবিধি তৈরির আবেদন করেছে। সংগঠনটির বক্তব্য, বিক্ষোভ, জনসমাবেশ কিংবা আইনশৃঙ্খলা রক্ষার অভিযানের খবর সংগ্রহ করতে গিয়ে সাংবাদিকদের যেন শারীরিক হেনস্থা, ভয় দেখানো, ইচ্ছামতো আটক বা জোর করে সরিয়ে দেওয়ার মুখে পড়তে না হয়।
এই মামলার সূত্রপাত দিল্লিতে বিশেষ নিবিড় ভোটার তালিকা সংশোধন বা SIR-কে কেন্দ্র করে সাম্প্রতিক বিক্ষোভের সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে পুলিশের আচরণ নিয়ে ওঠা অভিযোগ থেকে। বৃহস্পতিবারের শুনানিতে পুলিশ কী ব্যাখ্যা দেয় এবং সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আদালত কী নির্দেশ দেয়, এখন সেদিকেই নজর রয়েছে।
