নিউজ ডেস্ক: নন্দীগ্রাম বিধানসভা উপনির্বাচনের আগে কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানের অন্তর্বর্তী জামিন ঘিরে আইনি জটিলতা আরও বাড়ল। কলকাতা হাই কোর্টের দেওয়া অন্তর্বর্তী জামিনের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে বুধবার সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। তবে রাজ্যের জরুরি শুনানির আবেদন বৃহস্পতিবারের জন্য গ্রহণ করেনি শীর্ষ আদালত। মামলাটি আগামী সোমবার, ৫ অক্টোবর শুনতে রাজি হয়েছে সুপ্রিম কোর্ট।
বুধবার প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের বেঞ্চে রাজ্যের হয়ে বিষয়টি উল্লেখ করেন সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা। রাজ্যের বক্তব্য ছিল, এটি একটি খুনের মামলায় দেওয়া অন্তর্বর্তী জামিনের বিরুদ্ধে আবেদন। নন্দীগ্রামে ৬ অক্টোবর উপনির্বাচন। তার আগে মামলাটির শুনানি না হলে নির্বাচনী প্রেক্ষাপটে আবেদনের উদ্দেশ্য কার্যত গুরুত্ব হারাতে পারে—এই যুক্তিতেই দ্রুত শুনানির আবেদন জানানো হয়।
কিন্তু প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ বৃহস্পতিবারই শুনানির আর্জি গ্রহণ করেনি। আদালত জানায়, সোমবার মামলাটি তালিকাভুক্ত করে শোনা যেতে পারে। রাজ্যের পক্ষ থেকে বৃহস্পতিবার শুনানির জন্য ফের অনুরোধ করা হলে প্রধান বিচারপতি মন্তব্য করেন, “আমরা আবেদনটি খারিজ করব। তবে সোমবার শুনে খারিজ করব।” এরপর জরুরি ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার শুনানির আবেদন খারিজ করে দেয় শীর্ষ আদালত।
এর আগে মঙ্গলবার কলকাতা হাই কোর্টের বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ মিলন প্রধানকে ছয়টি মামলায় অন্তর্বর্তী জামিন দেন। ২০০৭ সালের নন্দীগ্রাম-সংক্রান্ত মামলাগুলিতে গ্রেফতার হয়েছিলেন তিনি। হাই কোর্টের নির্দেশে ২০ অক্টোবর পর্যন্ত তাঁর অন্তর্বর্তী জামিন বহাল থাকবে এবং নির্বাচনী প্রচারে অংশ নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। আদালত তাঁকে নির্দিষ্ট শর্তও দিয়েছে।
হাই কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী, মিলন প্রধানকে প্রতিটি মামলায় ২০ হাজার টাকার বন্ড দিতে হবে এবং পরবর্তী সময়ে আদালতের নির্দেশ মেনে আত্মসমর্পণ করতে হবে। তদন্তের স্বার্থে তাঁর মোবাইল নম্বর তদন্তকারী আধিকারিককে দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
মিলন প্রধানের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলাগুলি প্রায় ১৯ বছর পুরনো। হাই কোর্টের শুনানিতে তাঁর আইনজীবীরা জামিনের পক্ষে যুক্তি দেন। অন্যদিকে রাজ্যের পক্ষ থেকে জামিনের বিরোধিতা করা হয়েছিল। আদালতের অন্তর্বর্তী জামিনের পরই বিষয়টি সুপ্রিম কোর্টে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় রাজ্য।
এখন নজর সোমবারের শুনানির দিকে। কারণ ৬ অক্টোবর নন্দীগ্রামে ভোটগ্রহণ। সুপ্রিম কোর্টে রাজ্যের আবেদনের শুনানি হবে ভোটের ঠিক এক দিন আগে। ফলে মিলন প্রধানের জামিন নিয়ে আইনি লড়াইয়ের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হয়, সেদিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল।
