নিজস্ব প্রতিবেদন: রেস্তরাঁয় খাবার পরিবেশন করতে গিয়ে সামান্য ভুল বোঝাবুঝি। আর তার জেরেই এক ওয়েটারকে চড় মারার অভিযোগ উঠল এক অতিথির বিরুদ্ধে। ঘটনাটি সামনে আসতেই কঠোর পদক্ষেপ করল আগ্রার একটি তাজ হোটেল কর্তৃপক্ষ। অভিযুক্ত অতিথিকে হোটেলে আজীবনের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়েছে। গ্রাহকের পরিচয়, প্রতিপত্তি কিংবা আর্থিক ক্ষমতা—কোনও কিছুই কর্মীদের অসম্মান করার অধিকার দিতে পারে না, এই বার্তাই স্পষ্ট করে দিল হোটেল কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত। ঘটনাটি ঘিরে সমাজমাধ্যমেও শুরু হয়েছে জোর চর্চা।
ঘটনাটি প্রকাশ্যে আনেন সিনসিয়ার ডেভেলপার্সের জয়েন্ট ম্যানেজিং ডিরেক্টর পরিতোষ লাধানি। লিঙ্কডইনে একটি পোস্টে তিনি জানান, হোটেলের রেস্তরাঁয় কর্মরত এক ওয়েটারের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের ঘটনা জানার পরই অভিযুক্ত অতিথির বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি।
পরিতোষের বক্তব্য অনুযায়ী, কান্তি নামে ওই ওয়েটার আগ্রার কাছাকাছি একটি ছোট গ্রামের দরিদ্র কৃষক পরিবারের সন্তান। রেস্তরাঁয় অতিথিকে খাবার পরিবেশন করার সময় তাঁর সঙ্গে ওই ব্যক্তির কোনও একটি বিষয় নিয়ে ভুল বোঝাবুঝি হয় বলে অভিযোগ। কান্তি ইংরেজিতে খুব একটা সাবলীল নন। আর সেই ভাষাগত সমস্যার জেরেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে বলে জানা গিয়েছে। অভিযোগ, বিষয়টি শান্তভাবে মিটিয়ে নেওয়ার পরিবর্তে অতিথি তাঁকে চড় মারেন।
ঘটনাটি জানার পর হতবাক হয়ে যান হোটেল কর্তৃপক্ষ। তবে তাঁদের আরও বেশি অবাক করে কান্তির প্রতিক্রিয়া। অভিযোগ, মার খাওয়ার পরেও ওই কর্মী কর্তৃপক্ষের কাছে কোনও অভিযোগ জানাতে চাননি। চাকরি চলে যাওয়ার আশঙ্কাতেই তিনি মুখ খুলতে ভয় পেয়েছিলেন বলে জানা গিয়েছে। কর্মক্ষেত্রে একজন কর্মী কতটা অসহায় বোধ করলে এমন পরিস্থিতিতেও প্রতিবাদ করতে ভয় পান, সেই প্রশ্নও উঠে এসেছে।
বিষয়টি জানার পর আর দেরি করেনি হোটেল কর্তৃপক্ষ। পরের দিনই অভিযুক্ত অতিথিকে সংশ্লিষ্ট হোটেল থেকে আজীবনের জন্য ব্ল্যাকলিস্ট করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
পরিতোষ লাধানি তাঁর পোস্টে স্পষ্ট করে দিয়েছেন, কোনও গ্রাহক কতটা ধনী, প্রভাবশালী কিংবা উদার তা দিয়ে কর্মীদের সঙ্গে তাঁর আচরণের গ্রহণযোগ্যতা বিচার করা যায় না। গ্রাহকের সন্তুষ্টি গুরুত্বপূর্ণ হলেও কর্মীদের সম্মান ও নিরাপত্তার সঙ্গে কোনও আপস করা উচিত নয়।
সমাজমাধ্যমে বহু মানুষ এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, কর্মীদের পাশে দাঁড়ানোই দায়িত্বশীল নেতৃত্বের পরিচয়। আবার অনেকে নিজেদের কর্মজীবনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে জানিয়েছেন, ক্ষমতাবান ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মুখ খোলা অনেক সময় সাধারণ কর্মীদের পক্ষে কঠিন হয়ে পড়ে।
এই ঘটনা আরও একবার মনে করিয়ে দিল, পরিষেবা দেওয়ার দায়িত্বে থাকা কর্মীরা অসম্মান সহ্য করতে বাধ্য নন। ভাষাগত দুর্বলতা কোনও অপরাধ নয়, আর গ্রাহক হওয়া কাউকে অন্যের গায়ে হাত তোলার অধিকার দেয় না। কর্মীদের মর্যাদা রক্ষায় কর্তৃপক্ষের সক্রিয় ভূমিকা কতটা জরুরি, আগ্রার এই ঘটনা যেন সেই বার্তাই দিল।




