নিউজ ডেস্ক: কথায় বলে, বিন্দু বিন্দু জলেই সিন্ধু তৈরি হয়। প্রবাদটি যে নিছক কথার কথা নয়, বাস্তব জীবনে তার এক অনন্য দৃষ্টান্ত তুলে ধরলেন তেলেঙ্গানার লাক্সেত্তিপেটের এক ৫১ বছর বয়সী ব্যক্তি। গত তিন বছর ধরে সযত্নে জমিয়ে রাখা একরাশ ১০ টাকার ধাতব মুদ্রা দিয়েই তিনি কিনে নিলেন নিজের পছন্দের হোন্ডা অ্যাক্টিভা স্কুটার। শোরুমে গিয়ে নগদ ১ লাখ ২৩ হাজার টাকা মূল্যের সেই স্কুটারের সম্পূর্ণ দামই তিনি পরিশোধ করেছেন শুধুই কয়েনে।
শোরুমের কর্মীরা যখন প্রতিদিনের মতো ক্রেতাদের সামলাতে ব্যস্ত, ঠিক তখনই এই প্রৌঢ় হাজির হন তাঁর বহু যত্নে সঞ্চিত মুদ্রার সম্ভার নিয়ে। আধুনিক ডিজিটাল লেনদেন এবং ইউপিআই-এর যুগে যেখানে খুচরো পয়সা গোনা তো দূরের কথা, পকেটে ধাতব মুদ্রা রাখতেই অনেকে অনীহা দেখান, সেখানে কাচের গোল টেবিল জুড়ে একের পর এক থরে থরে সাজানো হতে থাকে ধাতব মুদ্রা। কয়েনগুলো এমন নিখুঁতভাবে সারিবদ্ধ করে স্তূপাকারে সাজানো হয়েছিল যে পুরো টেবিলটি এক ঝলকে সোনার মোহরের পাহাড়ের মতো রূপ নেয়।
https://x.com/upuknews1/status/2109907195169271911?s=20
শোরুমের কর্মীরা জানান, ক্রেতার এমন নিষ্ঠা ও আবেগ দেখে তাঁরা বিন্দুমাত্র বিরক্ত হননি; বরং হাসিমুখেই সময় নিয়ে সমস্ত কয়েন গুনে নেন। লেনদেন সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ার পর শোরুম কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে একটি প্রতীকী চাবি তুলে দেওয়া হয় তাঁর হাতে। নতুন গাড়ির ডেলিভারি নেওয়ার মুহূর্তে তাঁর মুখে ফুটে উঠেছিল এক পরম তৃপ্তির হাসি যেখানে মিশে ছিল বছরের পর বছর করা একনিষ্ঠ ধৈর্যের জয়।
প্রতিদিনের জীবনযাত্রায় হাতে আসা অতিরিক্ত ১০ টাকার কয়েনগুলো তিনি খরচ না করে আলাদা করে জমিয়ে রাখতেন। ছোট ছোট অঙ্কের টাকা আলাদা করে রাখার এই অভ্যাস যে ঠিক কতটা শক্তিশালী হতে পারে, তা আজ চোখের সামনে দেখিয়ে দিলেন এই সাধারণ মানুষটি।