নিউজ ডেস্ক: অন্ধ্রপ্রদেশের পুরসভা নির্বাচন ঘিরে হিংসা, মনোনয়ন জমায় বাধা এবং অনিয়মের অভিযোগ তুলে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানালেন ওয়াইএসআর কংগ্রেস পার্টির (YSRCP) সাংসদ মাদ্দিলা গুরুমূর্তি। অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু এবং অন্ধ্রপ্রদেশের রাজ্যপালের হস্তক্ষেপ চেয়েছেন তিরুপতির এই সাংসদ। তাঁর অভিযোগ, মনোনয়ন জমা দেওয়ার সময় বিরোধী প্রার্থীদের ভয় দেখানো হয়েছে, শারীরিক হামলা চালানো হয়েছে এবং বিভিন্নভাবে তাঁদের নির্বাচনে অংশগ্রহণে বাধা দেওয়া হয়েছে।
গুরুমূর্তির দাবি, ১৬ অক্টোবর নির্বাচনী প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর কয়েকটি জায়গায় মনোনয়নপত্র নষ্ট করে দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। অন্নমাইয়া, ওয়াইএসআর কডপা, চিত্তুর, তিরুপতি এবং অনন্তপুর জেলার একাধিক ঘটনার উল্লেখ করে তিনি অভিযোগ করেছেন, বিরোধী প্রার্থীদের উপর চাপ সৃষ্টি করা হয়েছে।
তাঁর আবেদনে পুঙ্গানুরে রাজমপেটের সাংসদ পি ভি মিধুন রেড্ডি এবং দলীয় প্রার্থীদের উপর হামলার অভিযোগও রয়েছে। পাশাপাশি, কয়েকটি জায়গায় গাড়িতে আগুন লাগানো এবং বিরোধী নেতাদের যাতায়াতে বাধা দেওয়ার অভিযোগ তুলেছে YSRCP। নিষেধাজ্ঞামূলক নির্দেশের প্রয়োগে পক্ষপাত এবং মনোনয়ন প্রক্রিয়ায় পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন সাংসদ।
এই অভিযোগকে কেন্দ্র করে অন্ধ্রপ্রদেশের শাসক তেলুগু দেশম পার্টি (TDP)-র নেতৃত্বাধীন NDA জোট এবং YSRCP-র মধ্যে রাজনৈতিক সংঘাত আরও বেড়েছে। তবে অভিযোগগুলির সত্যতা এখনও স্বাধীনভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়নি।
সুপ্রিম কোর্টের হস্তক্ষেপ
নির্বাচন ঘিরে বিতর্ক পৌঁছয় সুপ্রিম কোর্টেও। ২১ অক্টোবর শীর্ষ আদালত রাজ্য নির্বাচন কমিশনকে (SEC) অভিযোগ এবং সংশ্লিষ্ট প্রমাণ খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেয়। পাশাপাশি, প্রার্থীদের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ স্থগিত রাখা এবং মনোনয়ন কেন্দ্রগুলিতে পর্যাপ্ত পুলিশি নিরাপত্তা ও সিসিটিভি নজরদারির ব্যবস্থা করার নির্দেশ দেওয়া হয়।
এরপর রাজ্য নির্বাচন কমিশন চারটি পুরসভায় মনোনয়ন জমা দেওয়ার সময়সীমা বাড়ায়। আদালতের নির্দেশ মেনে রাজ্যের ১০০টি পুরসভায় নির্বাচনী প্রক্রিয়াও সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে গুরুমূর্তির দাবি, এই পদক্ষেপ যথেষ্ট নয়। তাঁর অভিযোগ, অন্যান্য ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাতেও বহু প্রার্থী মনোনয়ন জমা দেওয়ার সুযোগ পাননি। কয়েকটি ওয়ার্ডে কোনও মনোনয়ন জমা না পড়ার বিষয়টিও তিনি সামনে এনেছেন।
কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের দাবি
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্পর্শকাতর এলাকাগুলিতে কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী মোতায়েনের দাবি জানিয়েছেন YSRCP সাংসদ। যেসব এলাকায় প্রার্থীরা বাধার মুখে পড়েছেন, সেখানে প্রয়োজন অনুযায়ী মনোনয়ন এবং পুনরায় মনোনয়ন জমা দেওয়ার সময়সীমা বাড়ানোরও আবেদন জানিয়েছেন তিনি।
এ ছাড়া, নির্বাচনের বাকি প্রক্রিয়া তদারকির জন্য হাইকোর্ট বা সুপ্রিম কোর্টের কোনও অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিকে নিয়োগ করার প্রস্তাব দিয়েছেন গুরুমূর্তি। নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় কোনও সরকারি আধিকারিকের ভূমিকা নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও জানিয়েছেন তিনি।
সব মিলিয়ে অন্ধ্রপ্রদেশের পুরসভা নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ ক্রমশ বাড়ছে। রাজ্য নির্বাচন কমিশনের পরবর্তী পদক্ষেপ, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ কার্যকর করা এবং অভিযোগগুলির নিরপেক্ষ তদন্তের উপরই এখন নজর রয়েছে।




