সপ্তাহের প্রথম দিনে বড় ধাক্কা দিয়ে লেনদেন শুরু হলেও শেষ পর্যন্ত ঘুরে দাঁড়াল দেশের শেয়ার বাজার। সোমবার সকালে মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা, অপরিশোধিত তেলের দাম বৃদ্ধি এবং দুর্বল বৈশ্বিক বাজারের প্রভাবে সেনসেক্স ও নিফটি বড় পতনের মুখে পড়ে। তবে দিনের দ্বিতীয়ার্ধে তথ্যপ্রযুক্তি (আইটি) এবং বেছে নেওয়া আর্থিক খাতের শেয়ারে জোরালো কেনাকাটা শুরু হওয়ায় বাজার প্রায় সমতল অবস্থায় দিনের লেনদেন শেষ করে।
দিন শেষে বিএসই সেনসেক্স ৪৭ পয়েন্ট বেড়ে ৭৭,৬১৬.৫৭-এ বন্ধ হয়। অন্যদিকে নিফটি ৫০ সূচক ২৪,২০৬.৯০-এর কাছাকাছি স্তরে সামান্য ঊর্ধ্বগতিতে লেনদেন শেষ করে। সকালের বড় পতনের পর এই প্রত্যাবর্তন বাজারে বিনিয়োগকারীদের আস্থারই ইঙ্গিত দিয়েছে।
দিনের শুরুতে ব্যাঙ্কিং, গাড়ি, ধাতু এবং জ্বালানি খাতের শেয়ারে বিক্রির চাপ দেখা গেলেও পরে আইটি খাতে কেনাকাটা বাড়ে। ত্রৈমাসিক ফল প্রকাশের মরশুমকে সামনে রেখে বড় আইটি সংস্থাগুলির শেয়ারে চাহিদা বৃদ্ধি বাজারকে ঘুরে দাঁড়াতে সাহায্য করে।
দিনভর নজরে ছিল টাটা কনসালটেন্সি সার্ভিসেস (টিসিএস), জাস্ট ডায়াল এবং এলঅ্যান্ডটি ফিন্যান্সের শেয়ার। অন্যদিকে টাটা স্টিল, ইন্ডিগো-সহ কয়েকটি ধাতু ও গাড়ি সংস্থার শেয়ারে চাপ বজায় ছিল।
বিশ্লেষকদের মতে, অপরিশোধিত তেলের উচ্চ দাম, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি এবং দুর্বল এশীয় বাজার বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগে রাখলেও দেশের অর্থনীতি ও কর্পোরেট আয়ের সম্ভাবনা নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি আস্থা এখনও অটুট রয়েছে। আগামী দিনে ত্রৈমাসিক ফলাফল, বিদেশি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের লেনদেন, অপরিশোধিত তেলের দামের ওঠানামা এবং আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির উপর বাজারের দিকনির্দেশ অনেকটাই নির্ভর করবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, স্বল্পমেয়াদে অস্থিরতা থাকলেও ভালো মৌলিক ভিত্তিসম্পন্ন সংস্থার শেয়ারে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বজায় থাকতে পারে।