নয়াদিল্লি: বহু প্রতীক্ষার অবসান হতে চলেছে। ভারতের উচ্চগতির রেলযাত্রার স্বপ্ন এবার বাস্তবের আরও কাছাকাছি। কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব জানিয়েছেন, ২০২৭ সালের স্বাধীনতা দিবস, অর্থাৎ ১৫ অগস্ট, দেশের প্রথম বুলেট ট্রেনের প্রথম পর্যায়ের পরিষেবা চালু করার লক্ষ্যে কাজ এগোচ্ছে। প্রথমে চালু হবে গুজরাতের সুরাত থেকে বিলিমোরা পর্যন্ত অংশ। এরপর ধাপে ধাপে বাকি অংশ খুলে দেওয়া হবে।
মুম্বই-আমদাবাদ ৫০৮ কিলোমিটার দীর্ঘ বুলেট ট্রেন করিডর ভারতের রেল ইতিহাসে অন্যতম বৃহত্তম পরিকাঠামো প্রকল্প। জাপানের শিনকানসেন প্রযুক্তির আদলে তৈরি এই হাই-স্পিড ট্রেনে ঘণ্টায় ৩২০ কিলোমিটার বেগে ছোটা সম্ভব হবে। পুরো করিডর চালু হলে মুম্বই থেকে আমদাবাদ পৌঁছতে সময় লাগবে মাত্র ২ ঘণ্টা ১৭ মিনিট। সীমিত স্টপেজের পরিষেবায় এই সময় আরও কমে প্রায় ২ ঘণ্টারও কম হতে পারে।
রেলমন্ত্রীর দাবি, প্রকল্পের কাজ ইতিমধ্যেই প্রায় ৮০ শতাংশ সম্পূর্ণ। প্রথম পর্যায়ে সুরাত-বিলিমোরা অংশ চালু হওয়ার পর পরবর্তী ধাপে ভাপি-সুরাত, তারপর ভাপি-আমদাবাদ এবং শেষে থানে থেকে মুম্বই অংশ যুক্ত করা হবে। ফলে ধাপে ধাপে সম্পূর্ণ করিডর যাত্রীদের জন্য খুলে যাবে।
২০১৭ সালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং জাপানের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে এই প্রকল্পের শিলান্যাস করেছিলেন। যদিও জমি অধিগ্রহণ, প্রশাসনিক জটিলতা এবং কোভিড-পরবর্তী পরিস্থিতির কারণে প্রকল্পের কাজ প্রত্যাশার তুলনায় ধীর গতিতে এগিয়েছিল। তবে এখন নির্মাণকাজ দ্রুত এগোচ্ছে বলে দাবি রেলমন্ত্রকের।
বুলেট ট্রেন শুধু যাতায়াতের সময়ই কমাবে না, ভারতের রেল পরিকাঠামোকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে বলেই মনে করছে কেন্দ্র। উচ্চগতির রেল প্রযুক্তি, অত্যাধুনিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং বিশ্বমানের স্টেশন নির্মাণ— সব মিলিয়ে এই প্রকল্পকে দেশের পরিবহণ ব্যবস্থার ‘গেম চেঞ্জার’ হিসেবে তুলে ধরছে রেলমন্ত্রক।
স্বাধীনতার ৮০ বছর পূর্তির প্রাক্কালে দেশের প্রথম বুলেট ট্রেনের চাকা গড়ানোর লক্ষ্য এখন আর শুধু ঘোষণায় সীমাবদ্ধ নয়— সেই স্বপ্ন বাস্তবের রেললাইনে কত দ্রুত ছুটতে শুরু করে, সেদিকেই তাকিয়ে গোটা দেশ।




