দুর্গাপুর , রেশমি ব্যানার্জি - রেস্তরাঁয় পচা চিকেন তন্দুরি পরিবেশনের অভিযোগ দুর্গাপুরে। তদন্তে পুলিশ ও খাদ্য সুরক্ষা দফতর। নামীদামি রেস্তরাঁয় খেতে গিয়ে তীব্র দুর্গন্ধে খাবার মুখে তুলতে পারলেন না গ্রাহকরা। অভিযোগ, টেবিলে পরিবেশন করা হয়েছিল পচা মাংসের তৈরি চিকেন তন্দুরি। দুর্গাপুরের সিটি সেন্টার এলাকার একটি বেসরকারি রেস্তরাঁয় এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক শোরগোল শুরু হয়। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় দুর্গাপুর থানার সিটি সেন্টার ফাঁড়ির পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, কলকাতার বেলঘড়িয়ার বাসিন্দা রজত ঘোষ সপরিবারে দুর্গাপুরে ঘুরতে এসে সিটি সেন্টারের ওই রেস্তরাঁয় খেতে যান। পরিবারের সদস্যদের জন্য তাঁরা চিকেন তন্দুরি অর্ডার করেছিলেন। দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পর টেবিলে খাবার আসতেই ঘটে বিপত্তি। মাংস মুখে তুলতেই তীব্র দুর্গন্ধ নাকে আসে এবং স্বাদ একেবারেই নষ্ট বলে বুঝতে পারেন তাঁরা। এরপরই বাসি ও পচা খাবার পরিবেশনের অভিযোগ তুলে রেস্তরাঁ কর্তৃপক্ষের কাছে ক্ষোভ প্রকাশ করেন ভুক্তভোগী পরিবারটি।
ঘটনার খবর দেওয়া হলে সিটি সেন্টার ফাঁড়ির পুলিশ রেস্তরাঁয় উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ বিষয়ে এসিপি সুবীর রায় জানান, ঘটনার পর খাবারের মান যাচাইয়ের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। উপযুক্ত দফতরকে খাবারের নমুনা সংগ্রহের নির্দেশ পাঠানো হয়েছে এবং ল্যাব টেস্টের রিপোর্টের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। প্রাথমিকভাবে অভিযোগ এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলেও পরে বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দেয় রেস্তরাঁ কর্তৃপক্ষ।
এ বিষয়ে রেস্তরাঁর ম্যানেজার জিসান হোসেনের দাবি, তাঁরা সবসময় খাবারের গুণগত মান বজায় রাখেন এবং এ ধরনের অভিযোগ আগে কখনও ওঠেনি। কীভাবে এই ঘটনা ঘটল, তা অভ্যন্তরীণভাবে তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
তবে এই ঘটনা নতুন নয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দুর্গাপুরের একাধিক হোটেল ও রেস্তরাঁয় খাবারের মান নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই নানা অসন্তোষ রয়েছে। অতীতেও বেশ কিছু হোটেল থেকে পচা মাংস উদ্ধারের নজির রয়েছে। দুর্গাপুর নগর নিগম বা খাদ্য সুরক্ষা দফতরের তরফে নিয়মিত এবং কড়া নজরদারির অভাবেই শহরের একাধিক রেস্তরাঁয় এ জাতীয় অনিয়ম বারবার ঘটছে বলে ক্ষোভ বাড়ছে সাধারণ মানুষের মধ্যে।