মুম্বাই, অঙ্কন দাস: ছাত্র আন্দোলনের মুখে তিনি। তাঁর নেতৃত্বেই সফল হয়েছিল দিল্লির ছাত্র আন্দোলন। পদত্যাগ করেন তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। দিল্লিতে ছাত্র আন্দোলনের হাত ধরেই সামাজিক স্তরে নিজেদের পরিচয় স্থাপন করে ককরোচ জনতা পার্টি। ছাত্র আন্দোলনের পর নিজেদের নতুন কর্মসূচির কথা বলেছিলেন তিনি - 'কেয়া বোলতি পাবলিক।' এবার তাঁর নামেই দায়ের হল মামলা! উঠে এল ঠিক ভুলের প্রশ্ন। উঠে এল রাজনৈতিক প্রতিহিংসার তত্ত্ব!
অনুমতি ছাড়া সরকারি স্কুলে প্রবেশ, দফতরের কাজে ব্যাঘাত ঘটানো এবং শিক্ষকদের হুমকি দেওয়ার অভিযোগে 'ককরোচ জনতা পার্টি' বা, (সিজেপি)-র আহ্বায়ক অভিজিৎ দীপকে ও অন্যদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করল পুলিশ। জেলা পরিষদের একটি উর্দু স্কুলের শিক্ষিকা সৈয়দ শামশাদবানু খৈরাতালি-র দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে আউসা থানায় এই এফআইআর (FIR) নথিভুক্ত করা হয়েছে।
সিজেপি-র চলমান 'স্কুল ঠিক করো' (সরকারি স্কুলের মানোন্নয়ন) প্রচারের অংশ হিসেবে দীপকে মধ্য মহারাষ্ট্রের লাতুর জেলার বিভিন্ন স্কুল পরিদর্শন করছিলেন। তখন তিনি সেখানকার সমস্যাগুলো তুলে ধরেন। ঠিক সেই সময়েই ঘটনাটি ঘটেছে। মুম্বাই থেকে ৫০০ কিলোমিটারের বেশি দূরে।
ঘটনাস্থল আউসার কাছে জাওয়ালি এলাকার জেলা পরিষদ উর্দু স্কুল। অভিযোগে বলা হয়েছে, ' দীপকে ও তাঁর সহযোগীরা অনুমতি ছাড়াই স্কুলে প্রবেশ করেন, শিক্ষার্থীদের মাঝে গিয়ে বসেন এবং তাদের নানা প্রশ্ন করেন। এর ফলে শিক্ষাদান ও দাফতরি-ক কাজে ব্যাঘাত ঘটে। সিজেপি নেতা পুরো ঘটনাটি ভিডিও করেন এবং তা সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দেন।' এই মর্মে অভিযোগ ওঠে।
এক্ষেত্রে, , দীপকে অভিযোগ করেন যে তাঁর পরিদর্শনের সময় অন্য একটি স্কুলের শিক্ষার্থীদের এনে ক্লাসরুমে বসিয়ে রাখা হয়েছিল। এরই পরিপ্রেক্ষিতে দাবি করা হয় 'তিনি স্কুলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করেন এবং শিক্ষকদের বরখাস্ত করানোর হুমকি দেন!' ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১৩২ (সরকারি কর্মচারীকে দাপ্তরিক দায়িত্ব পালনে বাধা দিতে হামলা বা অপরাধমূলক বলপ্রয়োগ), ৩২৯(৩) (অনধিকার গৃহপ্রবেশ), ৩৫১(২) (অপরাধমূলক ভীতি প্রদর্শন) এবং ৩৫৬(২) (অপরাধমূলক মানহানি) ধারায় এই এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। কর্মকর্তারা জানান, 'এ বিষয়ে আরও তদন্ত চলছে।'