বালুরঘাট, নিউজ ডেস্ক: মায়ের বকুনি আর ভালো লাগেনি! পড়াশোনা নিয়ে বাবা-মায়ের শাসনে অভিমান করে সোজা পুলিশের জরুরী পরিষেবার ১১২ নম্বরে ফোন করে বসলো অষ্টম শ্রেণীর এক ছাত্রী। যা দেখে কার্যত হতবাক বালুরঘাট থানার পুলিশও। ফোন করে পুলিশকে জানায় ওই ছাত্রী, বাবা-মা তাঁকে অকারণে মারধর করছেন। অভিযোগ পেতে বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত বাড়িতে পৌঁছয় পুলিশ। কিন্তু তদন্তে গিয়ে সামনে আসে সম্পূর্ণ অন্য ছবি।
ঘটনাটি বালুরঘাটের। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবার ওই নাবালিকা ১১২ নম্বরে ফোন করে বাবা মায়ের বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ করে। জরুরী পরিষেবার কন্ট্রোল রুম থেকে খবর পৌঁছয় বালুরঘাট থানায়। এরপর আর দেরি না করে পুলিশ কর্মীরা ওই ছাত্রীর বাড়িতে পৌঁছে যান।
প্রথমে অভিযোগের গুরুত্ব বুঝে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন পুলিশকর্মীরা। নাবালিকার কাছ থেকে জানতে চাওয়া হয়, ঠিক কি ঘটেছিল। কিন্তু তদন্ত যত এগোয় তত সামনে আসে এক অন্য ছবি। পুলিশ জানতে পারে, মেয়েটির পড়াশোনায় তেমন মনোযোগ নেই। নিয়মিত পড়াশোনা করার জন্য বাবা-মা তাকে বকাঝকা করেছিলেন। আর সেই শাসনেই ক্ষুব্ধ হয়ে নাবালিকা ১১২ নম্বরে ফোন করে বাবা মায়ের বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ করে।
এদিকে, মেয়ের এমন কাণ্ডে হতবাক পরিবারও। ছাত্রীর বাবা জানান, মেয়েকে তাঁরা ভবিষ্যতের কথা ভেবে পড়াশোনায় মন দিতে বলেছিলেন। কিন্তু সেই বকুনির জেরে মেয়ে যে সরাসরি পুলিশের কাছে ফোন করে বসবে, তা তাঁরা ভাবতেই পারেননি। তাঁর বক্তব্য, 'আমরা তো ওর ভালোর জন্যই বলেছিলাম।'
পুলিশ অবশ্য ঘটনাটিকে নিছক ছেলেমানুষি ভেবে এড়িয়ে যায়নি। ছাত্রীর মাকে সতর্ক করা হয়েছে। একইসঙ্গে নাবালিকাকে বোঝানো হয়েছে পড়াশোনার গুরুত্ব এবং জরুরী পরিষেবা নম্বরের যথাযথ ব্যবহার সম্পর্কে। ঘটনাটি জানানো হয়েছে চাইল্ড ওয়েলফেয়ার কমিটিকে। পুলিশের কাছে ১১২ নম্বরে নানা ধরনের জরুরি অভিযোগ আসে। কিন্তু শুধুমাত্র পড়াশোনা নিয়ে বাবা-মায়ের বকুনির ঘটনায় এমন ফোন সচরাচর আসে না বলে জানিয়েছেন পুলিশকর্মীরা। ফলে, প্রথমে পুলিশ বিষয়টি নিয়ে যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত শুরু করে।
যদিও এই ঘটনায় কোনও গুরুতর শারীরিক আঘাতের তথ্য সামনে আসেনি বলে জানা গিয়েছে। তবে, ঘটনাটি অভিভাবকদের জন্য একটি বার্তা রেখে গেল। এই ঘটনায় আপাতত কোনও বড় বিপদের আশঙ্কা নেই। তবে, একটি ছোট্ট অভিমান যে কত দ্রুত একটি বড় ঘটনায় পরিণত হতে পারে, তা বুঝিয়ে দিল নাবালিকার এই ফোনকল।