মালদা, নিউজ ডেস্ক: দেশের মাটিতে থেকেও যেন বন্দী জীবন। একদিকে ভারত, অন্যদিকে বাংলাদেশ। মাঝখানে কাঁটাতারের বেড়া। আর সেই বেড়ার ওপারে ভারতীয় ভূখণ্ডে বসবাস করেছেন ২৪ টি পরিবার। দীর্ঘ একুশ বছর ধরে সীমান্তের এই বন্দীদশা থেকে মুক্ত চান তাঁরা। এবার পুনর্বাসনের দাবিতে রাজ্যের মন্ত্রীর দারস্ত হলেন সীমান্তবর্তী এলাকার শতাধিক বাসিন্দা।
মালদহের হবিবপুর বিধানসভা কেন্দ্রের বামনগোলা ব্লকের চাঁদপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের তালতলা এলাকার ঘটনা। এলাকাটি ভারতের ভূখণ্ডের অন্তর্ভুক্ত হলেও সীমান্তে বেড়া দেওয়ার পর সেটি কাঁটাতারের ওপারে চলে যায়। স্থানীয়দের দাবি, ২০০৫ সাল থেকে কার্যত বিচ্ছিন্ন অবস্থায় জীবন কাটাতে হচ্ছে তাঁদের।
স্থানীয় বাসিন্দাদের আরও অভিযোগ, বিএসএফের নির্দিষ্ট সময়সূচী মেনে তাঁদের যাতায়াত করতে হয়। সকাল ৬ টা নাগাদ গেট খোলার পর নিত্যদিনের প্রয়োজনীয় কাজ সারতে হয়। আবার সন্ধ্যা ৬ টার আগে গেট বন্ধ হয়ে যাবার আগেই সবাইকে এলাকায় ফিরে আসতে হয়। ফলে, রাতে কোনও জরুরী পরিস্থিতি তৈরি হলে সমস্যায় পড়তে হয় বাসিন্দাদের।
এমনকি, শুধু যাতায়াতের সমস্যা নয়, সীমান্তের ওপার থেকে দুষ্কৃতিদের আনাগোনা নিয়েও আতঙ্কে থাকেন তাঁরা। স্থানীয়দের অভিযোগ ছোট পুনর্ভবা নদী পেরিয়ে মাঝেমধ্যেই বাংলাদেশী দুষ্কৃতীরা এলাকায় ঢোকে। গবাদি পশু চুরি, জমির ফসল লুট-সহ নানা সমস্যার মুখে পড়তে হয় তাঁদের।
স্থানীয় বাসিন্দা অজিত হালদার ও দীপক শিকদারের কথায়, 'বিএসএফের ঘেরাটোপের মধ্যেই আমাদের থাকতে হচ্ছে। মাঝেমধ্যেই বাংলাদেশি দুষ্কৃতীরা নদী পেরিয়ে গবাদি পশু চুরি করে নিয়ে যাচ্ছে। ফসল কেটে লুঠ করছে। সন্ধ্যা ছ’টার পর গেট বন্ধ হয়ে যায়। রাতে কেউ অসুস্থ হলে চরম দুর্ভোগে পড়তে হয়। তাই মন্ত্রীকে আমরা পুনর্বাসনের জন্য দাবি জানিয়েছি। আমরা এখন আর কাঁটাতারের বেড়ার মধ্যে থাকতে চাই না।’
সূত্রে খবর, রবিবার ওই পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করেন হবিবপুরের বিধায়ক তথা রাজ্যের সেচ দফতরের প্রতিমন্ত্রী জোয়েল মুর্মু। তিনি বলেন, "সীমান্ত ফেন্সিং যখন হয়েছিল তখন কিছু ভারতীয় ভূখণ্ড কাঁটাতারের একপাশে চলে যায়।ওই ২৪টি পরিবারের বেশ কিছু মানুষ থেকে ওখানে থেকে যায়। যদিও তাঁদের আধার কার্ড, ভোটার কার্ড সবই রয়েছে। এদিন এলাকা পরিদর্শন করলাম। ওখানকার বাসিন্দাদের দাবি নিয়ে রাজ্য প্রশাসনকে জানানো হবে। চাঁদপুর এলাকায় কোথাও সরকারি খাস জমি থাকলে ওইসব পরিবারগুলিকে পুনর্বাসন দেওয়ার ক্ষেত্রে উদ্যোগ নেওয়া হবে।" তিনি তাঁদের পুনর্বাসনের দাবি রাজ্য প্রশাসনের কাছে জানানোর আশ্বাস দেন।
দীর্ঘ দুই দশকের বেশি সময় ধরে সীমান্তের কাঁটাতারের ঘেরাটোপে জীবন কাটানোর পর এবার নিজেদের স্বাভাবিক জীবনে ফেরার অপেক্ষায় ওই ২৪টি পরিবার। তাঁদের দাবি একটাই, তাঁরা আর থাকতে চান না কাঁটাতারের ওপারে।