পশ্চিম মেদিনীপুর, রেশমি ব্যানার্জি: বন্য পরিস্থিতিতে জলমগ্ন ঘাটাল। একেবারে দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে জনজীবন। এরই মাঝে ঘাটাল ও দাসপুরের বিভিন্ন এলাকায় দেখা গেল একাধিক বিতর্কিত হোডিং। আর এই হোডিং-এর মাধ্যমে সরাসরি কাঠগোড়ায় দাঁড় করানো হয়েছে ঘাটালের তৃণমূল সাংসদ দীপক অধিকারী ওরফে অভিনেতা দেবকে। একইসঙ্গে অভিযোগ করা হয়েছে তার আপ্তসহায়ক রামপদ মান্না এবং দাসপুরের তৃণমূল নেতা তথা পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা পরিষদের সদস্য সৌমিত্র সিংহ রায়ের বিরুদ্ধে।
দেবকে কটাক্ষ করে একটি হোডিংয়ে লেখা হয়েছে, ‘৩০ শতাংশ কাটমানিখোর ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানের চ্যাম্পিয়ন, এখন কোথায় শুটিং করতে ব্যস্ত?’ শুধু তাই নয় এরই পাশাপাশি প্রশ্ন তোলা হয়েছে দীর্ঘদিন তিনি সাংসদ থাকার পরেও ঘাটালের মানুষের জন্য তিনি কি করেছেন। আজও ঘাটাল কেন জলমগ্ন।
শুধু সাংসদ দেবকেই নয় একইভাবে নিশানা করা হয়েছে তার আপ্তসহায়ক রামপদ মান্নাকে। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছে প্রোমোটারি রাজ, শিশু মেলা, ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান, কাঠমানি ও চাকরি দুর্নীতি নিয়ে। এছাড়াও নিশনায় রয়েছেন দাসপুরের তৃণমূল নেতা সৌমিত্র সিংহ রায়ও। প্রমোটার রাজ, রাস্তার টেন্ডার বণ্টন, বালি ও মাটি সিন্ডিকেটের অভিযোগও উঠেছে তার বিরুদ্ধে।
এই ঘটনাকে ঘিরে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর। এই হোডিং ঘিরে তৃণমূলকে আক্রমণ করছে বিজেপি। দাসপুরের বিজেপি নেতা প্রশান্ত বেরা বলেন, এমন দুর্যোগ ও বিপর্যয়ের সময় সাংসদকে মানুষের পাশে দেখা যাচ্ছে না। আর এতেই সাধারণ মানুষের মনে তৃণমূলের বিরুদ্ধে ক্ষোভ আরও বাড়ছে।
এই হোডিং কারা লাগিয়েছে তা এখনও পর্যন্ত জানা যায়নি। বন্যা পরিস্থিতির মাঝেই সাংসদ ও তৃনমূল নেতাদের নিশানা করে এমন হোডিং, যা রীতিমত সরগরম করে তুলেছে ঘাটালের রাজনৈতিক মহল। এবার এই হোডিং-এর জল কতদূর গড়ায় সেটাই এখন দেখার।