পূর্ব বর্ধমান, নিউজ ডেস্ক: নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন বা CAA ঘিরে পূর্ব বর্ধমানে শুরু হল বিশেষ সহায়তা শিবির। বাংলাদেশ থেকে ভারতে আসা শরণার্থীদের নাগরিকত্বের আবেদন প্রক্রিয়া সহজ করতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে দাবি আয়োজকদের। বড়শুলের অন্নদাপল্লী হরিমন্দিরের প্রাঙ্গণে আয়োজিত এই শিবিরে আবেদনপত্র পূরণ থেকে শুরু করে প্রয়োজনীয় নথি যাচাই, একাধিক পরিষেবা দেওয়া হচ্ছে।
আয়োজকদের বক্তব্য, পূর্ব বাংলা থেকে ভারতে আসা বহু মানুষের কাছে নাগরিকত্বের আবেদন করার জন্য প্রয়োজনীয় নথি সঠিকভাবে প্রস্তুত না থাকায় সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছিল। সেই সমস্যার সমাধান করতে মতুয়া আঞ্চলিক কমিটির পরিচালনায় এই সহায়তা কমিটি চালু করা হয়েছে। উদ্যোক্তাদের দাবি, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শান্তনু ঠাকুরের নির্দেশে এই শিবিরের আয়োজন।
আয়োজকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আবেদনকারীদের ভারতের যে কোনও একটি বৈধ পরিচয়পত্র বা নথি, বাংলাদেশের অন্তত একটি নথি, সাক্ষী হিসেবে একজন প্রতিবেশীর স্বাক্ষর এবং হিন্দু ধর্মীয় পরিচয় সংক্রান্ত সার্টিফিকেট প্রয়োজন হচ্ছে। শিবিরে উপস্থিত কর্মীরা আবেদনকারীদের নথিপত্র যাচাই করার পাশাপাশি ফর্ম পূরণেও সাহায্য করছে।
আয়োজক কমিটির সদস্য অরুন মন্ডল এবং ভবরঞ্জন সরকার জানান, বহু শরনার্থী দীর্ঘদিন ধরে নথিপত্রের সমস্যায় ভুগছেন। তাঁদের কথা মাথায় রেখে এক জায়গায় আবেদন সংক্রান্ত বিভিন্ন কাজের সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে। তাঁদের দাবি, শিবিরে আবেদনকারীদের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হচ্ছে এবং প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণ করতে সহযোগিতা করা হচ্ছে।
এদিকে, শিবির ঘিরে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যেও যথেষ্ট আগ্রহ দেখা যায়। বহু মানুষ নিজেদের নথিপত্র নিয়ে সেখানে হাজির হন। আয়োজকদের দাবি, আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পরে নাগরিকত্ব সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় শংসাপত্র পাওয়ার ক্ষেত্রেও তাঁরা সহায়তা করবেন।
তবে, একটি বিষয় স্পষ্ট শিবিরের নথি জমা দেওয়া মানেই, সরাসরি নাগরিকত্ব পাওয়া নয়। CAA এর নির্ধারিত নিয়ম ও সরকারি যাচাই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে আবেদন নিষ্পত্তি হবে। এই শিবির মূলত আবেদনকারীদের সেই প্রক্রিয়ায় সহায়তা করার জন্য আয়োজন করা হয়েছে বলে উদ্যোক্তাদের বক্তব্য। ফলে, পূর্ব বর্ধমানের এই বিশেষ ক্যাম্পকে ঘিরে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে আলোচনা।