নিউজ ডেস্ক: সীমান্তে ভারত-চীন সংঘর্ষের নামে বিভ্রান্তি, সামাজিক মাধ্যমে পুরোনো ভিডিও ছড়িয়ে অপপ্রচারের জাল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’ ও ইনস্টাগ্রামে হঠাৎ করেই ছড়িয়ে পড়েছে ভারত ও চীনের সেনাদের মধ্যে কথিত সংঘর্ষের একাধিক ভিডিও। বিভিন্ন পোস্টে দাবি করা হচ্ছে, প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা পেরিয়ে চীনা লালফৌজ ভারতের সীমানার প্রায় ৬০ থেকে ৭০ কিলোমিটার ভেতরে ঢুকে পড়েছে এবং দুই পক্ষের সেনাদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘাত চলছে। তবে তথ্য যাচাই বা ফ্যাক্ট-চেক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এই দাবির পেছনে বাস্তব কোনো সত্যতা নেই, পুরো বিষয়টি একটি সুপরিকল্পিত অপতথ্য প্রচার অভিযান।
অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, নেটদুনিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ক্লিপগুলোর অধিকাংশই তিন থেকে চার বছরের পুরোনো। কোনো কোনো ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে ভারতীয় জওয়ানরা চীনা সেনাদের মোকাবিলা করছেন, যা আসলে বেশ কয়েক বছর আগের বিচ্ছিন্ন ঘটনার পুরোনো দৃশ্য। আবার কিছু ক্লিপ অন্য দেশের সেনাবাহিনীর মহড়ার, যেগুলোকে প্রেক্ষাপট বদলে ভারত-চীন সীমান্ত সংঘাত বলে চালানো হচ্ছে। এছাড়া কয়েকটি ফুটেজ এআই দিয়ে তৈরি করা অথবা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কেটে সংকলন করা হয়েছে।
https://x.com/SatyamRathii/status/2114616555925585985?s=20
বিশেষজ্ঞদের নজরে এসেছে আরও একটি চাঞ্চল্যকর দিক। এই ধরনের ভুয়ো ভিডিও ও বিভ্রান্তিকর বয়ান ছড়াতে সন্দেহজনক বোট অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করা হচ্ছে। এমন কিছু প্রোফাইল পাওয়া গেছে যেখানে ব্যবহারকারীর নাম ভারতীয় শোনালেও প্রোফাইলের ভৌগোলিক অবস্থান দেখাচ্ছে চীনের গুয়াংঝৌ। সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্য নিয়ে তৈরি এসব ছদ্মবেশী অ্যাকাউন্ট থেকে সীমান্ত উত্তেজনার মতো সংবেদনশীল বিষয়ে আতঙ্ক ও ঘৃণা ছড়ানোর চেষ্টা চলছে।
এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে ব্যবহারকারীদের অসচেতনতা। কোনো ঘটনার সত্যতা যাচাই না করেই কেবল সেনসেশনের মোহে অনেক সাধারণ ব্যবহারকারী এসব ভুয়ো পোস্ট লাইক ও শেয়ার করছেন। স্পর্শকাতর সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে যখন দুই দেশের কূটনৈতিক ও সামরিক পর্যায়ে আলোচনা চলে, তখন যাচাইহীন এমন ভিডিও সমাজে অপ্রয়োজনীয় বিভ্রান্তি, ভয় ও বিদ্বেষের সৃষ্টি করে।
তথ্য বিশ্লেষকদের পরামর্শ জাতীয় নিরাপত্তা ও সীমান্ত বিষয়ক যে কোনো চাঞ্চল্যকর খবর বা দৃশ্য দেখলে আবেগের বশে শেয়ার করার আগে তা অন্তত একবার ফ্যাক্ট-চেক করে নেওয়া জরুরি।




