নিউজ ডেস্ক: আলমারিতে এমন অনেক জামাকাপড় রয়েছে, যা হয়তো বছরের পর বছর পরা হয়নি। কোনওটির সঙ্গে প্রথম উপহার পাওয়ার অনুভূতি, কোনও পোশাকের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে প্রথম চাকরির স্মৃতি, আবার কোনওটি মনে করিয়ে দেয় জীবনের বিশেষ কোনও দিন। তাই পোশাক পুরনো হয়ে গেলেও সেটি ফেলে দিতে মন চায় না অনেকের। কিন্তু কেন এমন হয়?
এর পিছনে একটি বড় কারণ হলো স্মৃতির সঙ্গে বস্তুর আবেগগত সম্পর্ক। কোনও জিনিসের মূল্য সব সময় তার দাম দিয়ে নির্ধারিত হয় না। কখনও সেটি আমাদের কাছে অতীতের কোনও প্রিয় মানুষ, সম্পর্ক বা অভিজ্ঞতার প্রতীক হয়ে ওঠে। ফলে পোশাকটি সরিয়ে দেওয়ার কথা ভাবলেই মনে হতে পারে, যেন সেই স্মৃতির একটি অংশ হারিয়ে যাচ্ছে।
দ্বিতীয় কারণ, ভবিষ্যতে কাজে লাগতে পারে, এমন ভাবনা। অনেকেই মনে করেন, পোশাকটি একসময় অনেক দাম দিয়ে কেনা হয়েছিল, তাই ফেলে দিলে টাকার অপচয় হবে। আবার কেউ ভাবেন, পুরনো পোশাক বাড়িতে থাকলে কোনও না কোনও সময় কাজে লাগবে। । অর্থনীতির ভাষায়, আগে খরচ করা টাকা বা সম্পদের প্রতি এই মানসিক টানকে কখনও ‘Sunk Cost Effect’-এর সঙ্গে তুলনা করা যায়।
এ ছাড়াও ছোটবেলার অভাব, জিনিসের প্রতি পারিবারিক মূল্যবোধ কিংবা অপচয় না করার শিক্ষা আমাদের সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করতে পারে।
তবে পুরনো জিনিস জমিয়ে রাখার অভ্যাস থাকলেই কাউকে মানসিক সমস্যায় আক্রান্ত বলা যায় না। উদ্বেগের বিষয় তখনই, যখন জিনিসপত্রের ভিড়ে বাড়ির স্বাভাবিক ব্যবহার ব্যাহত হয়, চলাফেরার জায়গা কমে যায় কিংবা জিনিস ফেলে দেওয়ার চিন্তায় তীব্র মানসিক কষ্ট হয়।
তাহলে কী করা যায়? প্রথমে পোশাকগুলিকে তিন ভাগে ভাগ করুন যেগুলি নিয়মিত ব্যবহার হয় , যেগুলি স্মৃতির জন্য রাখতে চান এবং যেগুলি আর প্রয়োজন নেই। ভালো অবস্থায় থাকা পোশাক দান করা যেতে পারে, আর নষ্ট কাপড় পুনর্ব্যবহারের ব্যবস্থাও করা যায়।
স্মৃতি ধরে রাখার জন্য প্রতিটি বস্তু ধরে রাখা জরুরি নয়। কখনও একটি ছবি বা ছোট্ট একটি বস্তু সেই বিশেষ মুহূর্তকে মনে করিয়ে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট।




