বহুল প্রচলিত সেই প্রবাদ, ‘চোখের আড়াল মানেই মনের আড়াল’ আধুনিক প্রেমের দুনিয়ায় হয়তো আর খাটছে না। মনোবিদদের পর্যবেক্ষণ বলছে, আজকের দিনে দূরত্ব নয় বরং অতি সান্নিধ্যই অনেক সময় কাল হয়ে দাঁড়াচ্ছে সম্পর্কের ক্ষেত্রে। বছরের পর বছর আলাদা শহরে থেকেও যে ভালোবাসার বন্ধন অটুট ছিল, একই ছাদের নিচে একসঙ্গে সংসার পাততেই তা ভেঙে পড়ছে কাচের মতো।
কাজের সূত্রে বা পারিবারিক প্রয়োজনে আলাদা শহরে কাটানো প্রেমপর্বে সম্পর্কের রূপ থাকে অনেকটাই স্বপ্নের মতো। সারাদিনের ব্যস্ততা শেষে রাতের এক চিলতে ভিডিও কলে সঙ্গীর মুখ দেখা কিংবা ছুটির দিনে ক্ষণিকের দেখা, রোমাঞ্চ আর অপেক্ষার তাগিদেই প্রেম থাকে তরতাজা। কিন্তু বাস্তব জীবনের চিত্রনাট্য বদলাতে শুরু করে একসঙ্গে থাকা শুরুর পর থেকেই। দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে যুগল যখন এক সংসারে পা রাখেন, তখনই মোহভঙ্গ ঘটে বাস্তবের ধাক্কায়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, লং ডিস্ট্যান্স সম্পর্কের সময়ে প্রাত্যহিক জীবনের যৌথ দায়দায়িত্ব নিতে হয় না। কিন্তু এক ছাদের নিচে আসতেই সামনে চলে আসে সংসারের হাজারো খুঁটিনাটি টানাপোড়েন। প্রতিদিনের রান্নাবান্না, ঘর পরিষ্কার, কিংবা ক্লান্তির দিনে কে কার কাজের দায়িত্ব নেবে,এই অতিসাধারণ বিষয়ে বোঝাপড়ার অভাবেই জমতে থাকে তিক্ততা। রোমাঞ্চের জায়গা নিমেষেই দখল করে নেয় সংসারের চাপ ও পারস্পরিক অভিযোগ। ফলে দূরত্বের সময়ের করা বড় বড় প্রতিশ্রুতিগুলোও অর্থহীন মনে হতে থাকে।
এই সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে মনোবিদদের পরামর্শ, দূরত্বে থাকাকালীনই ভবিষ্যতের সংসার ও বাস্তব দায়িত্ব নিয়ে স্পষ্ট আলোচনা করা প্রয়োজন। পাশাপাশি এক ছাদের নিচে থাকার সময়েও সংসারের কাজের চাপে ভালোবাসার সময়টুকুকে হারিয়ে যেতে দেওয়া চলবে না। ব্যস্ততার ফাঁকেও পরস্পরের জন্য আলাদা সময় বের করা, একসঙ্গে বেড়াতে যাওয়া কিংবা একান্তে ভালো সময় কাটানোই পারে এক ছাদের নিচে রোমাঞ্চ বাঁচিয়ে রাখতে।