শিলিগুড়ি, নিউজ ডেস্ক- উত্তরবঙ্গে অন্যতম ব্যস্ত এলাকা এনবিএসটিসি বাস স্ট্যান্ড। চারপাশে তখন যাত্রীদের ব্যস্ততা। কেউ বাস ধরতে ছুটছেন, কেউ গন্তব্যের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে। প্রতিদিনের মতোই জনসমাগমে সরগরম শিলিগুড়ি জংশনের এনবিএসটিসি বাসস্ট্যান্ড। তার মধ্যেই আচমকা নজরে আসে এক ব্যক্তির নিথর হয়ে পড়ে থাকা দেহ। প্রথমে অচেতন অবস্থাতে তাঁকে উদ্ধার করা হলেও, হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। বাসস্ট্যান্ডে এই রহস্যজনক মৃত্যুকে ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত ব্যক্তির নাম মনু পাল। তিনি আলিপুরদুয়ারের ফালাকাটার বাসিন্দা। মঙ্গলবার শিলিগুড়ি জংশন এর এনবিএসটিসি বাস স্ট্যান্ড চত্বরে তাঁকে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয় বাসিন্দারা। জনবহুল এলাকায় এই দৃশ্য নজরে আসতে দ্রুত খবর দেওয়া হয় পুলিশে। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ। এরপর তড়িঘড়ি মনু পালকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়। কিন্তু চিকিৎসকদের সমস্ত চেষ্টা ব্যর্থ হয়। হাসপাতালে কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
জানা গিয়েছে, এরপর পুলিশ মৃতদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে পাঠানো হয়। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে না আসা পর্যন্ত মৃত্যুর সঠিক কারণ সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে কিছু বলতে চাইছে না পুলিশ। তবে আচমকাই এই মৃত্যুকে ঘিরে একাধিক রহস্যের দানা বাঁধছে।
তবে, জনবহুল একটি বাসস্ট্যান্ডে আচমকা এক ব্যক্তির মৃত্যু ঘিরে স্বাভাবিকভাবেই নানা প্রশ্ন উঠেছে। ঠিক কি কারণে মনু পাল অচেতন হয়ে পড়েছিলেন? তিনি কি কোনও শারীরিক অসুস্থতায় আক্রান্ত হয়েছিলেন? নাকি মৃত্যুর পিছনে অন্য কোনও কারণ রয়েছে? ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীদের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।
পাশাপাশি, বাসস্ট্যান্ড চত্বরের পরিস্থিতিও খতিয়ে দেখছে পুলিশ। সেখানে থাকা সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। মৃত্যুর আগে মনু পাল কোথায় ছিলেন, কারও সঙ্গে তাঁর দেখা হয়েছিল কিনা, এবং কি উদ্দেশ্যে তিনি শিলিগুড়ির বাসস্ট্যান্ডে এসেছিলেন, এসব তথ্য খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এই ঘটনার পর বাসস্ট্যান্ড চত্বরে বেশ কিছুক্ষণ উত্তেজনা ও আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়। ব্যস্ত জনবহুল এলাকায় এমন রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। ঘটনায় স্বাভাবিকভাবে প্রশ্ন উঠেছে নিরাপত্তা ও নজরদারি নিয়েও। এখন ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এবং পুলিশের তদন্তের দিকে নজর সবার। এই ঘটনার পর থেকেই গোটা এলাকায় থমথমে পরিবেশ।