বর্ষা মানেই তিস্তার ভয়ংকর স্রোত। নদীর জল বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পাড় ভাঙ্গার আতঙ্ক বাড়ে। বিশেষকরে জলপাইগুড়ির ময়নাগুড়ির দক্ষিণ মরিচবাড়ির নদীপাড়ের বাসিন্দাদের কাছে এই ভয় নতুন নয়। বাসিন্দাদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই ভিটেমাটি হারানোর আশঙ্কা ছিল। এবার সেই আতঙ্ক কিছুটা কমাতে উদ্যোগী হয়েছে প্রশাসন।
দক্ষিণ মরিচবাড়ির রাবণ মাঠ সংলগ্ন তিস্তা নদীর তীরবর্তী এলাকায় প্রতিরক্ষাবাঁধ সংস্কারের কাজ জোর কদমে শুরু হয়েছে। পাথর ও বোল্ডার বহনের উপযুক্ত রাস্তা না থাকায় এবার প্রচলিত পদ্ধতির বদলে ব্যবহার করা হচ্ছে বিশেষ ধরনের এইচডিপিই ব্যাগ। বাঁশের খাঁচার সঙ্গে এই ব্যাগ ব্যবহার করে নদীর তীরবর্তী এলাকাকে আরও শক্তিশালী করার চেষ্টা চলছে।
প্রশাসনিক ও কারিগরি সূত্রে জানা গিয়েছে, HDPE অর্থাৎ High Density Polyethylene দিয়ে তৈরি এই ব্যাগ সাধারণ বস্তার তুলনায় অনেক মজবুত। নদীর প্রবল স্রোতের মধ্যেও এগুলি প্রায় তিন বছর পর্যন্ত টিকে থাকতে পারে। ফলে, পাথর পরিবহনে সমস্যা থাকা এলাকাগুলিতে নদীভাঙ্গন প্রতিরোধে এই পদ্ধতি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। ইতিমধ্যেই দ্রুত গতিতে চলছে বাঁধ সংস্কারের কাজ। তবে, কাজের মান নিয়ে কোনরকম গাফিলতি বরদাস্ত করা হবে না বলে ঠিকাদারসংস্থাকে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে প্রশাসন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করার পাশাপাশি বাঁধের স্থায়িত্ব নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তিস্তা অববাহিকার আরও দুর্বল জায়গাগুলিও চিহ্নিত করা হচ্ছে। সেসব এলাকায় প্রয়োজন অনুযায়ী বাঁধ সংস্কার, আধুনিকীকরণ এবং নতুন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রশাসনের এই উদ্যোগে নদীভাঙনের আতঙ্কে থাকা দক্ষিণ মরিচবাড়ির বাসিন্দাদের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। তবে, এবার নতুন প্রযুক্তি কতটা কার্যকর হয়, সেদিকেই নজর সকলের।