কলকাতা, নিউজ ডেস্ক: হিন্দু পুরাণে বলা হয়েছে,সাগর মন্থনে উঠেছিল অমৃত।আর আধুনিক ভারতের 'সাগর মন্থন' দিতে চলেছে সুনামির আগাম সতর্কবার্তা। যার ফলে রক্ষা পাবে বহু প্রাণ এবং সম্পত্তি। গতকাল অর্থাৎ বুধবার জলস্পর্শ করল কলকাতার যুদ্ধ জাহাজ তৈরির কারখানা 'বিল্ডার্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ার্স' দ্বারা প্রস্তুত একটি সমুদ্র গবেষণা জলযান। এই জলযানটিরই নাম সাগর মন্থন।
জানা গিয়েছে, ওসেন রিসার্চ ভেসেল (ORV)'টি ঋষি বঙ্কিম শিপ ইয়ার্ড' প্রস্তুত করছিল গত পাঁচ মাস ধরে। ভেসেলটি তৈরি করতে খরচা হয়েছে ৮৪০ কোটি টাকা। গতকাল এই ভেসেলটি জলের নামলেও একে গবেষণার যন্ত্রপাতি বসিয়ে সম্পূর্ণ রূপে প্রস্তুত করতে লাগবে আরও দুই বছর। উদ্বোধন করতে এসেছিলেন কেন্দ্রীয় ভূবিজ্ঞান মন্ত্রকের মন্ত্রী ডক্টর জিতেন্দ্র সিং। উপস্থিতি ছিল মন্ত্রকের সচিব ডঃ শ্রীনিবাসকুমার তুম্মালা'র।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ভূবিজ্ঞান মন্ত্রকের সচিব জানান- ‘অত্যন্ত আধুনিক প্রযুক্তিতে তৈরি এই জলযান বা ওআরভি উপকূলবর্তী অঞ্চল ও গভীর সমুদ্রে কোনও ভূমিকম্প ও তার থেকে সুনামির সম্ভাবনা রয়েছে কি না, তা নিয়ে পরীক্ষা চালাবে। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৬ কিলোমিটার গভীরে পর্যন্ত গবেষণা চালাতে সক্ষম সাগর মন্থন। যদি সুনামির সম্ভাবনা চিহ্নিত হয়, সঙ্গে সঙ্গে উপকূলকে সতর্ক করবে এই ভাসমান গবেষণা কেন্দ্র। ৮৯.৫ মিটার লম্বা ও ১৮.৮ মিটার চওড়া এই জাহাজটি ৫ হাজার ৯০০ টন সামগ্রী বহন করবে।’
এই অনুষ্ঠানে কেন্দ্রীয় ভূবিজ্ঞান মন্ত্রকের মন্ত্রী ড. জিতেন্দ্র সিং বার্তা সহ বক্তব্য দেন- ‘এই জাহাজটি জিআরএসই, কেন্দ্রীয় ভূবিজ্ঞান মন্ত্রক ও ন্যাশনাল সেন্টার ফর পোলার অ্যান্ড ওসেন রিসার্চ বা এনসিপিওআর-এর সহযোগিতায় তৈরি হচ্ছে। গত পাঁচ বছর ধরে কেন্দ্রীয় সরকার চালু করেছে গভীর সমুদ্র মিশন। এর আওতায় রয়েছে গভীর সমুদ্র প্রযুক্তি, ভারতের নিজস্ব মানবব্বাহী সাবমার্সিবল, সমুদ্র ও জলবায়ু পরিষেবা, গভীর সমুদ্রের জীববৈচিত্র, গভীর সমুদ্র অনুসন্ধান, সমুদ্র থেকে শক্তি ও মিষ্টি জল আহরণ এবং উন্নত সামুদ্রিক জীববিজ্ঞান গবেষণা।’
ডক্টর জিতেন্দ্র সিং আরো জানান- 'এই গবেষণা জাহাজ ভারতের নিজস্ব জাহাজ নির্মাণ কৌশল, ইঞ্জিনিয়ারিং এবং বৈজ্ঞানিক সক্ষমতা ও শক্তির প্রতীক হতে চলেছে। জাহাজটিতে থাকবে সমুদ্রতলের মানচিত্র তৈরি, সমুদ্রতলের পলি এবং খনিজ সম্পদের অনুসন্ধানের জন্য অত্যাধুনিক গবেষণা ব্যবস্থা থাকবে।
এই জাহাজ থেকে দূরনিয়ন্ত্রিত যান ও জলের তলায় স্বয়ংক্রিয় চলাচলকারী যান নামানো ও ফিরিয়ে আনার জন্য অত্যাধুনিক পরিকাঠামো থাকবে।'
তবে নতুন ভারতের কাছে, অর্থাৎ তরুণ প্রজন্মের কাছে এই আবিষ্কার কি প্রভাব ফেলতে পেরেছে তা বোঝা যাবে, বিভিন্ন অভিযানে এই জাহাজের অংশগ্রহণ এবং সঠিকভাবে কার্যপদ্ধতি সম্পূর্ণ করার মাধ্যমে।