মালদা, রেশমি ব্যানার্জি: স্থায়ী দোকান রয়েছে অথচ দোকানের সামগ্রী ছড়িয়ে ফুটপাত দখল করে ব্যবসা। এবার বেআইনি দখলদারির বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নিল মালদহ জেলা প্রশাসন। পথচারীদের জন্য নির্দিষ্ট জায়গা দখল করে ব্যবসা চালানো ব্যবসায়ীদের দুই থেকে তিন দিনের সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে নিজেরা দখল না সরালে প্রশাসন অভিযান চালিয়ে ফুটপাত খালি করাবে। প্রয়োজনে আইনি ব্যবস্থাও নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।
মালদহ শহরের নেতাজি মোড় থেকে ফোয়ারা মোড় পর্যন্ত এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে ফুটপাত দখল করে ব্যবসা চালানোর অভিযোগ উঠেছিল। কোথাও দোকানের পণ্য ফুটপাতের ওপর সাজিয়ে রাখা হচ্ছে, আবার কোথাও অস্থায়ী ছাউনি তৈরি করে পথচারীদের জায়গা দখল করা হয়েছে বলে অভিযোগ। এর জেরে সাধারন মানুষ বাধ্য হয়ে ফুটপাত ছেড়ে রাস্তায় হাঁটছেন। ফলে, একদিকে যেমন যানজট বাড়ছে তেমনই দুর্ঘটনার আশঙ্কাও তৈরি হচ্ছে।
পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে বুধবার মাঠে নামে মালদা জেলা প্রশাসন। মালদহ সদর মহকুমা শাসক শম্ভুদীপ সরকারের নেতৃত্বে জেলা ট্রাফিক পুলিশ আধিকারিকদের সঙ্গে নিয়ে এলাকা পরিদর্শন করা হয়। প্রশাসনের তরফে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে ফুটপাত দোকানের সম্প্রসারণের জায়গা নয়। এটি সাধারণ মানুষের চলাচলের জন্য নির্দিষ্ট। তাই কোনও ভাবেই রাস্তা দখল করে ব্যবসা চালানো বরদাস্ত করা হবে না।
সূত্রে খবর, প্রশাসনের তরফে ব্যবসায়ীদের নিজেদের উদ্যোগে দখল সরানোর জন্য তিন থেকে চার দিনের সময়সীমা দেওয়া হয়েছে। নির্দিষ্ট সময় পেরিয়ে গেলেও যদি ফুটপাত দখলমুক্ত না হয়, তাহলে প্রশাসন নিজেই উচ্ছেদ অভিযান চালাবে। এ বিষয়ে মহকুমা শাসক শম্ভুদীপ সরকার বলেন, 'জবরদখল কোনওমতেই বরদাস্ত করা হবে না। সাধারণ মানুষ ও পথচারীদের চলাচলের জন্য ফুটপাত। জবর দখলের বিরুদ্ধে নিয়মিত পরিদর্শন চলছে। তিন দিনের মধ্যে ফুটপাত দখলমুক্ত না হলে প্রশাসন নিজেই ব্যবস্থা নেবে'।
প্রশাসনের এই কড়া বার্তায় নড়েচড়ে বসেছেন ব্যবসায়ীরা। ফুটপাত দখলমুক্ত হলে পথচারীদের চলাচল সহজ হওয়ার পাশাপাশি যানজট ও দুর্ঘটনার আশঙ্কাও কমবে বলে মনে করা হচ্ছে। তাই নিত্যযাত্রীদের সুবিধার কথা চিন্তা করেই এই কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করছে প্রশাসন।